স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গার দর্শনার আকন্দবাড়ীয়া ও দামুড়হুদার ফকিরপাড়ায় পৃথক মাদকবিরোধী সমাবেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। তিনি বলেছেন, যারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে যারা মাদক ব্যবসা অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল শনিবার বিকেলে দর্শনা থানার আকন্দবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এবং পরে দামুড়হুদা উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে পৃথক দুটি মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আকন্দবাড়ীয়ার সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাজা আবুল হাসানাত, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহাম্মদ আলী, দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট, পৌর সমন্বয়ক আলহাজ মশিউর রহমান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজকর্মী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খলিফা, দর্শনা থানা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম, থানা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন লিটন, সদস্য সচিব সাজেদুর রহমান মিলন, থানা কৃষক দলের সভাপতি আশরাফুল হক বিপ্লব এবং আকন্দবাড়ীয়া মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল মুন্নাফ মুন্নাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাবেশে পুলিশ সুপার বলেন, দর্শনা থানার সবচেয়ে মাদকপ্রবণ এলাকা আকন্দবাড়ীয়া ও বেগমপুর ইউনিয়ন। এখানে একসময় দাদা, বাবা ও নাতি—তিন প্রজন্মই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। এই পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া হবে না। এখন সময় এসেছে দাদা মসজিদে যাবেন, বাবা মাঠে কাজ করবেন আর সন্তান লেখাপড়ায় মনোযোগ দেবে।
তিনি আরও বলেন, যারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিতে চান, তাদের পুনর্বাসন ও বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করতে জেলা পুলিশ সহযোগিতা করবে। তবে যারা এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে শুধু পুলিশের অভিযান যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এর আগে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে সচেতন যুবসমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী যুব সমাবেশেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আজাদ রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইকরামুল হক, সদর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বদর মনি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, যুবসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ফকিরপাড়ার সমাবেশে পুলিশ সুপার বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়। তাই আজ থেকেই মাদক কেনাবেচা বন্ধ করতে হবে। যারা এখনও এই অপরাধে জড়িত রয়েছেন, তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। অন্যথায় মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি জনগণ, অভিভাবক, যুবসমাজ ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সমাবেশের একপর্যায়ে উপস্থিত জনতার সামনে ফকিরপাড়া গ্রামের খোকনের ছেলে আশরাফুল প্রকাশ্যে পুলিশ সুপারের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অঙ্গীকার করেন। এ সময় পুলিশ সুপার তাকে সৎ পথে থেকে আইন মেনে জীবনযাপন এবং সমাজের মূলধারায় ফিরে আসার আহ্বান জানান।
দুই সমাবেশেই বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং যুবসমাজকে খেলাধুলা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মাদকবিরোধী বিভিন্ন সচেতনতামূলক বক্তব্য ও প্রচারণা পরিচালিত হয়।
আকন্দবাড়ীয়া ও ফকিরপাড়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশে এসপি রুহুল কবীর খান



