আলমডাঙ্গা অফিস
প্রচার-প্রচারণার আলো থেকে দূরে থেকেই টানা পাঁচ বছর ধরে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১৮০ থেকে ২০০টি খাবারের প্যাকেট অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন ওয়াজেদ হোসেন কচি। মানবিক এই উদ্যোগের পাশাপাশি অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তাও দিয়ে আসছেন তিনি। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যের মুখে হাসি ফোটানোই তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় প্রস্তুত করা খাবারের প্যাকেট বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন একাধারে ৫বছর। রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন। কোনদিন ডাল, কোনদিন মাছ আবার কোনদিন মাংস থাকে খাবার তালিকায়। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই কার্যক্রমের ফলে বহু দরিদ্র পরিবারের খাবারের সংকট লাঘব হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মহীন, বয়স্ক, রেলের ধারে বসবাসরত ও অসুস্থ ব্যক্তিরা এই উদ্যোগ থেকে নিয়মিত উপকৃত হচ্ছেন।
খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, চিকিৎসা এবং জরুরি সহায়তা, গৃহনির্মাণ ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়। ফলে অনেক অসহায় পরিবার নতুন করে বেঁচে থাকার আশা খুঁজে পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোনো প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়, বরং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি বছরের পর বছর নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর এই উদ্যোগ সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করছে।
জানা যায় ওয়াজেদ হোসেন কচি তিনি যেমন সফল ব্যবসায়ী পাশাপাশি মানবাধিকার কর্মী হিসাবেও সমাজে মানবিক কাজগুলো প্রতিনিয়তই করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের আলমডাঙ্গা শাখার উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্বে আছেন। তাই এই কর্মের জন্য গত ১০ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর হাত থেকে সম্মননা ক্রেস্ট পেয়েছেন।
এ বিষয়ে ওয়াজেদ হোসেন কচি বলেন, মানুষের মুখে হাসি দেখতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। যতদিন সামর্থ্য থাকবে, ততদিন অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাব।
সমাজসেবায় তাঁর এই নিরলস অবদান স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকের মতে, এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আলমডাঙ্গায় পাঁচ বছর ধরে নীরবে প্রতিদিন ২০০ ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন ওয়াজেদ হোসেন কচি



