স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন জেলা শাখার উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হলদে পাখি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে এই সভার আয়োজন করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ গার্ল গাইড অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিশনার রেবেকা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার।
জেলা গার্ল গাইডসের সাধারণ সম্পাদক রউফুন নাহার রিনার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গার্ল গাইডসের কোষাধ্যক্ষ জাহানারা বেগম। সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন দেশের কন্যাশিশু ও তরুণীদের নেতৃত্ব বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গাইডিং কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো মেয়েদের আত্মনির্ভরশীল, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে এই গাইডিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন ইউনিট গঠন, সদস্য বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গাইডিংকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় আগামী দিনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ও এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো জেলার গাইডিং কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত গাইড ইউনিট গঠন এবং সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা। এছাড়াও গাইডার ও ইউনিট লিডার তৈরির বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ, প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং চুয়াডাঙ্গা জেলায় গাইডিং সম্প্রসারণে করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। এসময় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইডিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন করা হয়। পরে অরিয়েন্টেশন শেষে মাদ্রাসার শিক্ষকদের সনদ প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শারমিন আক্তার বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই শিখেছি যে স্কাউট বা গার্লস গাইডের যে কার্যক্রম সেগুলো আসলে মানুষের ভেতরের মানবিকতা, মূল্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, চারিত্রিক শুদ্ধতা, পরোপকার এই বিষয়গুলো আমাদের শিক্ষা দিয়ে থাকে। এই বিষয়গুলো কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমাদের ভেতরে লালন করতে যদি দেওয়া হয়, তাহলে আমরা বড় হয়ে এগুলোর চর্চা করতে পারি এবং প্রকৃত মানুষ হিসেবে আমরা আমাদের শিশুদেরকে গড়ে তোলার প্রয়াস পাই। প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের এই সংক্রান্ত কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ শিক্ষকদেরকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাহলে এই কার্যক্রমকে আরো বেশি বেগবান করা যায়।
তিনি আরোও বলেন, শহর অঞ্চলে ১০ টা স্কুল থাকলে ১০ টা স্কুলেই স্কাউট এন্ড গার্লস গাইড এই কার্যক্রমটা রয়েছে। কিন্তু গ্রামের স্কুলগুলো যেমন জীবননগরের আন্দুলবাড়ীয়া বা রায়পুর ইউনিয়ন বা সীমান্ত ইউনিয়ন এই সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলোতে আমাদের যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ তারা সদর থেকে একটু দূরে থাকে। তারা এই সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে অনেক সময় অবগত থাকে না। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে, যে সকলকে সম্পৃক্ত করে এই কাজগুলো মনিটর করা, বা সকলকে সাথে নিয়েই এই কাজগুলোকে আরো বেগবান করা। উন্নয়ন কিন্তু একটা সামগ্রিক বিষয়, কাউকে পেছনে ফেলে কিন্তু সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হয় না। এজন্য উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সকলকেই কিন্তু সম্পৃক্ত হতে হয়। আমাদের দায়িত্ব হবে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করা যেখানে বাদ যাবে না কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমি যেহেতু অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা আইসিটি হিসেবে কাজ করেছি, তখন দেখেছি যে আমাদের এই অঞ্চলগুলোতে আমাদের যে গার্লস গাইড বা স্কাউট বা রোভার, এ সংক্রান্ত কার্যক্রমের যে মাসিক চাঁদাটা রয়েছে, প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিন্তু দেখা যায় যে যখন স্কুলের সেশন চার্জ নিচ্ছে, নতুন সেশনে ভর্তি হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, তখন কিন্তু সেই টাকাটা তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে। ৪০ টাকা ২৫ টাকা যেটা সরকার নির্ধারিত টাকা। সেই সরকার নির্ধারিত টাকাটাই কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রতিটি শিক্ষার্থীর অনুকূলে গ্রহণ করছে। কিন্তু এই টাকাটা সঠিকভাবে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওয়াইজ আমাদের উপজেলাতে হস্তান্তর করা হচ্ছে না।
যার কারণে আমরা কোনো ধরনের অনুষ্ঠান করতে পারছি না। যখনই এই ফান্ড সংকটটা তৈরি হচ্ছে, তখনই কিন্তু আমাদের আগ্রহ অনেকটাই সীমিত হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, জনকল্যাণমূলক, অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শারমিন সেলিনা আজহার, দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু হাসান, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা তাসলিমা নাসরিন।
মতবিনিময় সভায় আরোও উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপি’র সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফ, দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার বার্তা সম্পাদক আহাদ আলী মোল্লা, দৈনিক পশ্চিমাঞ্চল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক রুবায়েত বিন আজাদ সুস্থির ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা।



