চুয়াডাঙ্গা শহরের এতিমখানা পাড়ায় পৌরসভার অনুমতি না নিয়ে বহুতল ভবনের ছাদে মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ, বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী, কাজ বন্ধের নোটিশ

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাসষ্ট্যান্ড পাড়ার এতিমখানা সড়কে পৌরসভার অনুমতি না নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এখানেই শেষ নয় এ ভবনের ৪র্থ তলার ছাদের উপর আবার নতুন করে মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। এতে মহল্লাবাসীর মধ্যে চরম বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী অবৈধ টাওয়ার নির্মাণ বন্ধের দাবী জানিয়ে লিখিত আবেদন করেছেন জেলা প্রশাসক ও পৌর কর্তৃপক্ষ বরাবর। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত জোড়ালো কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এদিকে ভবন নির্মাণে পৌরসভার অনুমতি না নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে, গতমাসে তড়িঘড়ি করে বাড়ির মালিক পৌরসভায় নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।  
লিখিত আবেদনে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুলচারা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মাহফুজুর রহমান সুমন (৪২)। তিনি কয়েক বছর আগে এতিমখানাপাড়া সড়কে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। বাড়িটির দোতলার কাজ শেষ করে সেখানে বসবাস করা হচ্ছে। এরপর তৃতীয় তলা নির্মাণ কাজ চলছে। পাশাপাশি এক সাইডে চতুর্থ তলা ছাদের উপর একটি মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ভবনটির তৃতীয় তলার কাজ শেষ হতে চললেও পৌরসভা থেকে এখনও বাড়ির নকশার অনুমতি নেয়া হয়নি। এরইমধ্যে একটি মোবাইল কোম্পানির সাথে তিনি বাড়ির ছাদে টাওয়ার নির্মাণের চুক্তি করেছেন। স্থানীয়ভাবে এলাকাবাসি বেশ কয়েকবার ভবন মালিক সুমনকে টাওয়ার নির্মাণ না করার অনুরোধ করলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। পরে বাধ্য হয়ে এলাকার লোকজন লিখিত আবেদন দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় তিনশ মিটারের মধ্যে সরকারি শিশু পরিবার, এম এ বারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এম এ বারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জেলা ত্রাণ অফিস, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনসহ বেশকিছু বেসরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ বিষয়ে ১০ মে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এলাকাবাসী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাহফুজুর রহমান সুমনকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা থেকে দুটি পৃথক নোটিশ দেয়া-হয়। তবে সে নোটিশের ধার ধারেনি মাহফুজুর রহমান সুমন। অবশেষে ২৪ মে এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরসহ একটি চিঠি জেলা প্রশাসক বরাবর প্রদান করা হয়। চিঠিতে আবাসিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পৌরসভা কর্তৃক নকশা অনুমোদনহীন ভবনে অবৈধ মোবাইল টাওয়ার নির্মাণসহ পৌরসভার দায়িত্ব অবেহেলার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৪ জুন পৌরসভার প্রশাসককে এ বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবসা নেবার নির্দেশ দেয়া হয়। জেলা প্রশাসকের পত্র পাবার পর ১০ জুন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত “বিনা অনুমতিতে মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ বন্ধ করার” নোটিশ মাহফুজুর রহমান সুমনকে দেয়া হয়। এরপর থেকে টাওয়ার নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।  
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল হোসেন বলেন, আমরা একাধিকবার সুমনকে টাওয়ার নির্মাণ বন্ধ করার কথা বললে, সে কাজ করবে না বলে জানায়। কিন্তু সে কথা রাখেনি, আবার কাজ শুরু করে। এ কারনে আমরা পৌরসভা ও জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি। সে টাওয়ার নির্মাণ করার জন্য ইট, বালু  ও সিমেন্ট তৃতীয় তলায় রেখে দিয়েছে। সুযোগ পেলেই কাজ করছে।  
এ বিষয়ে মাহফুজুর রহমান সুমন বলেন, কয়েক বছর আগে টেলিটক কোম্পানির সাথে ১০ বছরের চুক্তিতে একটি টাওয়ার নির্মাণের কথা হয়। টাওয়ার নির্মাণ করার জন্য পৌরসভা থেকে যে অনুমোদনের প্রয়োজন তা নেবে কোম্পানি। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল তবে আমি জানতে পেরেছি স্থানীয় কিছু মানুষজন জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় এ কাজটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমিও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যদি আইনি জটিলতা থাকে তাহলে কাজ বন্ধ থাকবে, আর যদি অনুমোদন প্রাপ্ত হয় তাহলে কোম্পানি টাওয়ার নির্মাণ করবে। তবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকে নির্মাণ কাজ সম্পন্নরূপে বন্ধ রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, আমার জানামতে টাওয়ার নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে। নির্মাণ কাজ করলে পৌর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও ভবনটি নির্মাণে পৌরসভার অনুমতি নেই।  সেই বিষয়ে তিনি বলেন, এটার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। তারা এর জন্য ব্যবস্থা নেবেন।  

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।