কুলপালায় ভাইয়ের করা সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ জানিয়ে জাকির এন্ড ব্রাদার্সের জাকিরের বিবৃতি

স্টাফ রিপোর্টার
কুলপালা গ্রামে হাঁসের খামারে জাকিরের বিরুদ্ধে তার আপন দুই ভাইয়ের সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে জাকিরের বিরুদ্ধে অসত্য ও মিথ্য তথ্য তুলে ধরা হয়েছে দাবী জাকিরের। হাঁসের খামারের গল্পের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরে এক লিখিত বিবৃতি দিয়েছে জাকির এন্ড ব্রাদার্স মিক্সড এগ্রো ফার্ম এন্ড হ্যাচারী জাকির হোসেন। বিবৃতিটি নিন্মে তুলে ধরা হলো।
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা গ্রামের হাজী আব্দুর রশিদ ও আজিমন নেছার সেজো ছেলে মোঃ জাকির হোসেন।  আমি ২০০০ সালে এসএসসি পাশ করি। ২০০৩ সালে চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করি। এর পর খুলনা ডিপ্লোমা ইন এ্যাগরিকালচার কোর্সে-এ চান্স পাই। কিন্তু টাকার অভাবে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। আমি একটি হাঁসের খামার করি। প্রতিষ্ঠানটির নাম দেয়া হয় মেসার্স জাকির এন্ড ব্রাদার্স মিক্সড এগ্রো ফার্ম এন্ড হ্যাচারী। ২০০২ সালের মার্চ মাসের ২৯ তারিখ বৃহস্পিতিবার ফার্মটির যাত্রাশুরু হয়। এর মধ্যেই আমার পরিবার আমাকে বিয়ের পিড়িতে বসায় তার পর আমার পরিবারে আরো অর্থ সংকট দেখা দেয়। তারপর ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের মেজো ভাইকে বিদেশে নিয়ে পাঠাই। সেই সময় আমার ছোট ভাই দুবাই অবস্থানরত ছিল। একসময় আমার ছোট ভাই দেশে ফেরত আসে এমতবস্থায় আমার মেজো ভাই বিদেশ থেকে বলে আমি পরিবারের সাথে একসাথে থাকতে চাইনা। এবং আমার বড় ভাই ঐ সময় বলে আমিও থাকতে চাই না তখন আমরা পারিবারিক ভাবে আলোচনা সাপাক্ষে ২০১১ সালের ৮ জুলাই বড় ভাই ও মেজো ভাই আলাদা হয়ে যায়।
পরবতীতে আমরা দুই ভাই সমস্ত দায়-দেনা পরিশোধ করে আমাদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আসে। কিন্তু আমার বড় ভায়ের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। আমার পিতা তখন আমাকে বলে বাবা জাকির তোমার বড় ভাই কাদেরের অবস্থা এখন তো খুব খারাপ আর তোমার ব্যবসায় তো ১৫-২০ জন শ্রমিক আছে। বাবা তুমিও একদিন পিতা হবা এবং আমি পিতা হিসাবে আরেক সন্তানের জন্য তোমার কাছে দারস্থ হয়েছি তুমি কাদেরকে একটু তোমার সাথে করে নাও। এমতাবস্থায় আমার বড় ভাইকে আমার দুই ভাই ১০ লাখ টাকা প্রদান করি ব্যবসা করার জন্য এবং বড় ভাইকে বলি ভাই আপনি ব্যবসা করে এই টাকা আমাদের ফেরত প্রদান করতে হবে না তবে শর্ত ছিল এই যে, যদি আমি আর আমার ছোট ভাই ব্যবসায়ের সমস্যা হয় আপনিও আমাদের পাশে থাকবেন। তিনি টাকা গ্রহণ করলেন এবং ব্যবসায়ের জন্য পাট ক্রয় করলেন। এক পর্যায়ে ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আমার ছোট ভাইয়ের কাছে এসে ফেরত প্রদান করেন। এবং তিনি বলেন আমার তোমরা তো খামারের ব্যবসা ভালোভাবে পরিচালনা করে আসছো যদি আমাকে আবার তোমাদের সাথে নিতে তাহলে একসাথে ব্যবসা করতাম। এই মর্মে আমরা দুই ভাই রাজি হয়। পরবর্তীতে আমার মেজো ভাই ১৪ বছর পর বিদেশ থেকে এসে আমাদের সাথে শ্রমের বিনিময়ে পাটর্নার হয়।
আস্তে আস্তে আমাদের প্রজেক্টটি বড় হতে থাকে এবং আমাদের দুই ভায়ের ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে যেখানে বর্তমানে হ্যাচারী আছে ঐ খানে ২ বিঘা ৪ কাঠা জমি ক্রয় করি।  চার ভাই এর নামের রেজিস্ট্রি করা হয়। আস্তে আস্তে বর্তমান প্রজেক্টের প্রায় ৫০ বিঘা জমি আছে এবং যা আমাদের চার ভাইয়ের নামেই। এমতাবস্থায় আমার বড় ভাইয়ের ও মেজো ভাইয়ের ছেলেরা সবাই বড় হয়। এখন আমাদের পারিবারিক কোন্দল বাধে। বিষয়টি আমার মেজো ভায়ের মেজো ছেলে আনুমানিক বয়স ১৫ থেকে ১৬ বছর আমার ছোট ভাইয়ের আপন খালাতো শালীর সাথে বিয়ে করে পরবর্তীতে যার কারনে আমাদের ভাই ভাইদের ভিতরে দ্বন্দ সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে ব্যবসার উপর চরম প্রভাব পড়ে। এমতাবস্থায় আমাকে আমার মেজো ভাই ও মেজো ভাইয়ের দুই ছেলে গত মাসের  ২৪ মে আমাদের প্রতিষ্ঠানে এসে আমাকে মারধর, গালিগালাজ ও শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করে একপর্যায়ে আমার দাড়িও ছিড়ে দেয়। বর্তমানে আমার মেজো ভাই তার সন্তান নিয়ে শশুর বাড়ীতে আছেন। আমাদের হ্যাচারীর নামে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা লোন নেওয়া আছে। আমাদের দুই ভাই জাকির ও জাহিদের নামে। কিন্তু আমার মেজো ভাইকে আমি বলি তুমি তোমার সমস্ত সম্পদ ও দায় কে বুঝিয়া নাও কিন্তু তিনি শ্বশুর বাড়ী থেকে আসে না।
এমতাবস্থায় আমি আলমডাঙ্গা থানায় ২৪ মে তারিখে একটি অভিযোগ দায়ের করি। পরবর্তীতে আমার বড় ভাই ও মেজো ভাই সড়যন্ত্র করে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তারা সংবাদ সম্মেলন করে নানাবিধ মনগড়া কথা বলে জন সাধারনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এখন আমি আমার ভাইদের সকল প্রকার সম্পদ ও দায়-দেনা বুঝিয়ে দিতে চাই যাতে করে তাদের সাথে আমার সু-সম্পর্ক বজায় থাকে এবং আমি সামাজিক ভাবে ও আইনগত ভাবে দায় মুক্তি হতে পারি।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।