আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি এখন ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন ও কাউন্টারে টিকিট ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ‘নাই’ হয়ে গেলেও, স্টেশনের বাইরে চড়া দামে মিলছে কাঙ্খিত টিকিট। ফলে সাধারণ যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন একটি প্রভাবশালী চক্রের কাছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মধ্যে সুন্দরবন, চিত্রা, বেনাপোল, কপোতাক্ষ, সাগরদাড়ি এক্সপ্রেস টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় এই চক্রটি সক্রিয় হয়। অনেক সময় রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মচারী ও স্থানীয় দালালের যোগসাজশে টিকিটগুলো আগেই ব্লক করে রাখা হয়। কাউন্টারে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত দিয়ে বাইরে থেকে টিকিট কিনতে হচ্ছে যাত্রীদের।
তথ্যমতে, কালোবাজারিরা বিভিন্ন ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (ঘওউ) এবং একাধিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করে রাখে। বিশেষ করে ঈদ বা সরকারি ছুটির সময় এই দৌরাত্ম্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্টেশনের আশপাশে থাকা কিছু দোকান এবং ভ্রাম্যমাণ হকারদের মাধ্যমে এসব টিকিট চড়া দামে বিক্রি করা হয়। সম্প্রতি রেল মন্ত্রণালয় টিকিট কালোবাজারি রোধে ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও আলমডাঙ্গায় এর প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী বলেন, “অনলাইনে ঢুকলে সিট দেখায় না, কিন্তু স্টেশনের পাশের দোকানে গেলেই টিকিট পাওয়া যায়। এটা কীভাবে সম্ভব?”



