স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। গত কয়েকদিন ধরে ওপরের দিকে উঠছে তাপমাত্রার পারদ। এতে চরম ভোগান্তিতে আছেন চুয়াডাঙ্গাবাসী। জনজীবনে চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে। কাঠফাটা রোদ আর তপ্ত হাওয়ায় অসহনীয় হয়ে উঠেছে জনজীবন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে গরমের তীব্রতা। গরম ও অস্বস্তিতে রাস্তায় চলাচল করা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রচন্ড গরমে মানুষ ঘেমে নেয়ে অস্থির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষজন একটু শীতলতার খোঁজে ব্যাকুল হয়ে উঠছে। কেউ কেউ হাতে, মুখে মাথায় ও শরীরে পানি ছিটিয়ে একটু স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে এপ্রিলের শুরুতে চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের উষ্ণতম জেলার তালিকায় উপরের দিকেই অবস্থান করে চুয়াডাঙ্গা জেলা। যেখানে তাপমাত্রার পারদ থাকে স্বাভাবিকের অনেক উপরে। অসহনীয় তাপ ও বাতাসের আদ্রতা গরমকে আরো দুর্বিসহ করে তোলে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মৃদু থেকে মাঝারি দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সব থেকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, গত কয়েকদিন ধরেই চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৪৬ শতাংশ। এতে করে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন আরও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এর আগে দুপুর ১২টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আদ্রতা ছিল ৬০ শতাংশ। এই তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
তীব্র রোদ আর গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে ভ্যান চালক, রিকশা চালক ও দিনমজুরদের কষ্টের সীমা নেই। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট অনেকটা জনশূন্য হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চান না। রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে পথচারীদের ছাতা ও মাথায় কাপড় ব্যবহার করতে দেখা গেছে। গরমে কদর বেড়েছে ডাব, তরমুজ ও ঠান্ডা পানীয়ের। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে আখের রস ও শরবতের দোকানে ভিড় করছেন তৃষ্ণার্ত মানুষ।
ফুটপাতের শরবত বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরম পড়েছে। এই গরমকে কেন্দ্র করেই শরবতের ব্যবসা খুলেছি। বিভিন্ন মৌসুম ভেদে নানান রকম ব্যবসা করে থাকি। কিন্তু এই তীব্র গরমে মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। তাই বেচাকেনা খুবই কম। তবে বিকালের দিকে বেচাকেনা একটু বাড়ে। গরমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শরবত বিক্রি করতে আমাদেরই অনেক কষ্ট হয়। অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে বাঁচতে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ব্যাপারে এসময় বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, আজ বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। এর আগে ৩ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয় ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস মৃদু তাপপ্রবাহে জনজীবনে চরম অস্বস্তি



