ঝিনাইদহ অফিস
আধুনিক কৃষিতে যেখানে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে, সেখানে সম্পূর্ণ কীটনাশকমুক্ত পদ্ধতিতে পটল চাষ করে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষ্মী কুন্ডু গ্রামের কৃষক কহির আলী খান। গতকাল রবিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার আগেই নিজ ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। হাতে একটি পুরুষ ফুল নিয়ে আরেকটি স্ত্রী ফুলের সঙ্গে আলতোভাবে স্পর্শ করাচ্ছেন। জানতে চাইলে কহির আলী জানান, পটল গাছে স্বাভাবিকভাবে পরাগায়ন সবসময় ঠিকমতো হয় না। তাই তিনি নিজ হাতে পুরুষ ফুলের পরাগ স্ত্রী ফুলে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ফলন ভালো হয় এবং ফুল ঝরে যাওয়ার হার কমে।
তিনি বলেন, এখন প্রায় সব ফসলেই বিষ ব্যবহার করা হয়। আমি চেষ্টা করছি কীটনাশক ছাড়াই সবজি ফলাতে। আল্লাহর রহমতে ভালো ফলন পাচ্ছি। পোকামাকড় দমনে তিনি ব্যবহার করছেন নিজস্ব উদ্ভাবনী কৌশল। ক্ষেতের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের পাত্র ঝুলিয়ে তার ভেতরে বিশেষ প্রলোভন ব্যবহার করে পোকা আটকে ফেলছেন। পাশাপাশি হলুদ রঙের আঠাযুক্ত ফাঁদ ব্যবহার করছেন, যেখানে পোকা বসলে আর উড়তে পারে না। এতে রাসায়নিক প্রয়োগ ছাড়াই কার্যকরভাবে পোকা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে।
কহির আলী জানান, মাত্র ছয় কাঠা জমিতে পটল চাষ করে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ৩০ হাজার টাকার পটল বিক্রি করেছেন। চলতি মৌসুমে কয়েক লাখ টাকার পটল বিক্রির আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমি চেষ্টা করি সব ফসলই কীটনাশক মুক্তভাবে উৎপাদন করতে। এতে উৎপাদন খরচ কমে এবং ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্য পান।
তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা প্রসঙ্গে কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে তার। তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমাদের দিকে তেমন নজর দেওয়া হয় না। যাদের সামর্থ্য বেশি, তাদের প্রতিই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কোটচাঁদপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, উপজেলা পর্যায়ে সবজি চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়। কোনো কৃষক সমস্যা নিয়ে এলে তা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, কহির আলী খানের এই উদ্যোগ অন্য কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। কীটনাশকমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে তাঁর মতো সচেতন কৃষকদের এগিয়ে আসা সময়ের দাবি বলেও মনে করছেন তারা।
কীটনাশকমুক্ত পটল চাষে সফল কোটচাঁদপুরের কৃষক কহির আলী খান



