জীবননগর অফিস
গতবছরে প্রবল বৃষ্টি পাতে ভেঙে পড়া জীবননগরের ৪ টি ব্রীজ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও আজও মেরামত করা হয় নি। এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় কোনরকম সংস্কার করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে চলাচল করছে পথচারীরা। সাইকেল, মোটরসাইকেল ও পাখিভ্যান গাড়ি পার হলেও ভারি যানবাহন গুলো ব্রীজের উপর দিয়ে পারাপার করতে পারে না।এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে এই এলাকার ২৫/৩০ টি গ্রামের মানুষ।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ভারি বৃষ্টিপাতে জীবননগর উপজেলার সিংনগর বাওড়ের বাঁধ ভেঙে পানির প্রবল স্রোতে ভৈরব নদীতে থাকা ৪ টি ব্রীজ ভেঙ্গে পড়ে। সিংনগর, উথলী গ্রামের আচামিতে ব্রীজ, সন্তোসপুর ব্রীজ ও মনোহর গ্রামের ব্রীজ ভেঙ্গে পড়ে।এর মধ্যে মনোহরপুর গ্রামের ব্রীজ টি ভেঙে পড়ে চলাচল বন্ধ আছে।বাকি তিনটি ব্রীজ স্থানীয়দের সহযোগীয় কিছুটা মেরামত করে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে চলাচল করছে।ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে ব্রীজ সংস্কারের জন্য এখনো পর্যন্ত কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। সিংনগর গ্রামের আহাদ আলী বলেন,আজ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে আছে।
সাধারণ পথচারীদের যাতায়াত ও মালামাল আনা নেওয়া করতে চরম অসুবিধা হচ্ছে। কৃষকদের তাদের কৃষিপণ্য ঘরে তুলতে ও বাজার জাত করতে কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে সমস্যা সম্মুখীন হচ্ছে। ব্রীজটি সংস্কার করার জন্য মানববন্ধন সহ অনেকের জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
সন্তোসপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুস ছাত্তার বলেন,ব্রীজ টি ভেঙে পড়ার পরে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তারা এসে পরিদর্শন করে গেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নি।তবে উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক ঝন্টু নিজ উদ্যোগে কিছু ইট ও খোয়া দিয়ে সংস্কার করে দিয়েছিলো।তারপর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে এই ব্রীজের উপর দিয়ে মানুষ যাতায়াত করছে।
মনোহরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এই গ্রামের মানুষ ব্রীজ টি ব্যবহার করে মাঠের ফসল ঘরে আনে ও বিভিন্ন গ্রামে যাতায়াত করে।কিন্তু ব্রীজ টি ভেঙে পড়ে যাওয়ার কারনে আর চলাচল করা যায় না।মানুষেরা পানির মধ্যে হেটে ব্রীজের ওপারে তাদের কৃষিজমিতে যায়।
স্থানীয় মানুষজন আরও জানিয়েছেন ব্রীজ গুলো ভেঙে যাওয়ার কারনে অনেকের ১০/১২ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হয়।এবছরে বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতে ব্রীজের বাকি অংশগুলো ভেঙে গেলে গৃহবন্দী হয়ে পড়বে ২৫/৩০ টি গ্রামের মানুষ। বর্ষা মৌসুমের আগে ব্রীজ গুলো মেরামতের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ছয় মাসেও সংস্কার হয়নি জীবননগরের ভেঙে যাওয়া চারটি ব্রীজঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, ভোগান্তিতে ২৫-৩০ গ্রামের মানুষ



