মেহেরপুর অফিস
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা মেহেরপুরের উপর দিয়ে বইছে তীব্র তাপদাহ। এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা তীব্র তাপদাহ আর বাতাসে আগুনের হল্কার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেই সাথে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের লোডশেডিংয়ে মাত্রা। সারা দিনের তাপমাত্রার কাছাকাছি তাপমাত্রা থাকছে রাতেও। এ তাপদাহের ফলে রাস্তাঘাট প্রায় জনশূণ্য। একটু স্বস্তির জন্য ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসাবাড়িতে গেলেও থাকছে না বিদ্যুৎ। এক বিন্দুও স্বস্তি মিলছে না কোথাও। তৃষ্ণার্ত পথচারীরা তৃষ্ণা মেটাতে পান করছেন রাস্তার পাশের ধূলাবালি মিশ্রিত শরবত ও আখের রস। অনেকেই এই অস্বাস্থ্যকর পানীয় পান করে পেটের পীড়াসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গার আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা গেছে, গেল ৩ দিন ধরে চলছে বৈরী আবহাওয়া। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বেলা ৩টায় রেকর্ড করা হয় ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়াও শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ৩৯.৭ ডিগ্রি, বৃহষ্পতিবার (২ এপ্রিল) ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। প্রচণ্ড গরমের সাথে চলছে গরম বাতাস। যা গেল বছরের তুলনায় অনেক বেশি। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া অপরিবর্তীত থাকতে পারে। ইতোমধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তর সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।
মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদ যেন আগুনের ফুলকি হয়ে ঝরছে। বিশেষ কওে বেলা ১২ টার পর থেকে রোদের তাপে কোন প্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে যাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে। শ্রমজীবী মানুষ রোদে পুড়েই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। চলমান তাপদাহে সবচেয়ে কষ্টে পড়েছে খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান চালক ও কৃষকরা। তীব্র রোদে মাঠে টিকতে পারছে না কৃষক ও দিনমজুররা। প্রচন্ড রোদে তৃষ্ণা মেটাতে পিপাসার্তরা রাস্তার ধারে বিক্রি করা নানা ধরনের শরবত কিনে পান করছেন। রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কম।
মেহেরপুর ওয়াপদা মোড়ে কয়েকজন ভ্যানচালক বলেন, রোদ উঠলেই গরমে রাস্তায় থাকা যায় না। তাই খুব সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে শহরে আসেন ভ্যান চালাতে। বাজার খরচসহ জীবীকার তাগিদে সারাদিন প্রচন্ড রোদ গরমেও ভ্যান চালাতে হয়। সারাদিনের পরিশ্রমের শেষে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে দেখি কারেন্ট নেই কখন আসবে তারও কোন ঠিক নাই। গরমে কষ্ট করেই থাকতে হয় আমাদের। এমনি কষ্ট করে জীবীকা নির্বাহ করতে হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষদের।
তীব্র তাপদাহের ফলে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের রোগ বালাই। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। গরমে শরীওে ঘাম শুকিয়ে ও ঠান্ডা পানীয় পান করার কারনে স্বর্দি, কাশি, গলা ব্যাথা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ নানা ধরণের রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেকে। প্রচণ্ড ভিড় থাকায় রোগী দেখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। গত ৭ দিনে ১৩ জন জ্বর ও ৩৫ জন ডাইরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আজিজ বলেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ একটু বেশি। আউটডোরে রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়ষ্ক রোগীর সংখ্যা বেশী। অনেকেই জ্বর শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে আসছেন। তবে স্যালাইন ও ওষুধের সরবরাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। তাছাড়া সকলকে বেশি পানি পান ও রোদে বাইরে বেশি চলাচল না করার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাংনী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শফিউদ্দীন আহমেদ জানান, আমাদের চাহিদা মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। তাই সিডিউল করে সরবরাহ অনুযায়ী লোডশেডিং রাখতে বাধ্য হচ্ছি। তবে সরবরাহ বাড়লে আর লোডশেডিং থাকবে না।
চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জামিনুর রহমান জানান, চুয়াডাঙ্গা দেশের সব্বোর্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। পার্শ্ববর্তী জেলা হওয়ায় একই অবস্থা বিরাজ করছে মেহেরপুরেও। বর্তমানে তীব্র তাপদাহ চলছে। আপাতত বৃষ্টিপাতের কোন সম্ভাবনা নেই। তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তীব্র তাপদাহে পুড়ছে মেহেরপুর, জনজীবন বিপর্যস্ত দিনভর দাবদাহের সাথে লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ



