স্টাফ রিপোর্টার
টানা তিন দিন চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তীব্র গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। গতকাল শুক্রবারও চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে চলছে। বাতাসের আদ্রতা রয়েছে ৩১ শতাংশ। এতে গরমের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে দ্বিগুন মাত্রায়। হঠাৎ করে তাপমাত্রার উর্ধ্বগতিতে চুয়াডাঙ্গার জনজীবনকে করে তুলেছে অস্থির। জেলার মানুষের মাঝে হাসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে।
গত ১ এপ্রিল বুধবার চুয়াডাঙ্গাতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গাতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরপর একটানা তিনদিন চুয়াডাঙ্গাতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করায় মানুষের মাঝে ভীতি তৈরি হয়েছে। তাপমাত্রা বেড়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হওয়াতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বেলা তিনটায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩১ শতাংশ। এর আগে এ জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বেলা ১২টায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় তপ্ত রোদে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে গোটা জনজীবন। এতে সুর্যের তাপও বাড়তে থাকে। রোদের তাপের কারণে শহরের মোটরসাইকেল-যানবাহন চলাচলে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। বের হলেও রোদের তাপ থেকে বাঁচতে ছাতা মাথায় দিয়ে বের হচ্ছেন সব শ্রেণির পেশার মানুষ। হঠাৎ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন অসহায় খেটে-খাওয়া মানুষেরা।
ভ্যান ও রিকশা চালকেরা পাচ্ছেন না পর্যাপ্ত যাত্রী। সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন মাঠে কাজ করা শ্রমিকরা। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে ফসল উৎপাদনে কাজ করছেন তাঁরা। তপ্ত রোদের তাপমাত্রায় তাদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। রোদ গরম থেকে বাচঁতে অনেকেই গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। একই সাথে গরমে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে ঠান্ডা পানির শরবত ও আখের রস বেচাকেনা বেড়েছে। তাঁরা গরম থেকে স্বস্থি পেতে আখের রস ও ঠান্ডা শরবত পানি পান করছেন।
ভ্রাম্যমান ফল বিক্রেতা আব্দুল আলীম বলেন, ভ্যানে করে অনেক জায়গায় ফল বিক্রি করি। এতদিন মোটামুটি ভালো চলল এখন আর পেরে উঠতে পারছি না। এই তীব্র গরমে ভ্যান চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফল বিক্রি করা আমার জন্য ভীষণ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। সকালে গরম একটু কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। এই তীব্র গরমে আয় রোজগার করা আমাদের মত নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খুবই কষ্টকর।
কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, সকালে উঠে মাঠে যেতে হয় কিন্তু এই তীব্র রোদ আর গরমে বেশিক্ষণ মাঠে থাকতে পারছি না। যে গরম আর রোদের তাপের কারণে শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। ছাতা মাথায় দিয়ে বের হতে হচ্ছে। নয়তো রোদের তাপ মনে হচ্ছে আগুন। খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছি না। কিন্তু মাঠে ফসল ফলানোর জন্য আমাদের মাঠে যেতেই হচ্ছে। এমন গরমে অনেক কৃষকই মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
চুয়াডাঙ্গায় প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জাহিদুল হক বলেন, এখন এ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এই জেলায়।
টানা ৩ দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়, ৩৯.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা সাধারণ মানুষের



