জীবননগরে জামায়াত-বিএনপি রক্তাক্ত সংঘষের্র ১০দিন পর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মফিজুর রহমানের মৃত্যু জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল, থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে

জীবননগর অফিস
জীবননগরে জামায়াত বিএনপি সংঘর্ষে ১০ দিনের ব্যবধানে আপন দু’ভাইয়ের মৃত্যু। বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াত আমীর হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমানের মৃত্যুতে জীবননগরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ইন্তেকাল করেছেন। মফিজুর রহমান এবং তার আপন ভাই হাফিজুর রহমান হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে জীবননগরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা জামায়াত ও অঙ্গ সংগঠন। গতকাল মঙ্গলবার আসরের নামাজের পর জীবননগর জীবননগর হাইস্কুল থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি জীবননগর হাসপাতালের সামনে থেকে ঘুরে এসে জীবননগর বাসস্ট্যান্ডে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমীর সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবু বক্কর। সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মফিজুর রহমান ও তার ভাইসহ জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। সেই দিন রাতেই হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফিজুর রহমান মারা গেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, পুলিশ নিজে এ পর্যন্ত হামলার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ অন্য কাউকে গ্রেফতার করেনি। আমরা তামাশা দেখতে চায় না। জামায়াত শান্তিপূর্ণভাবে বিচার চায়। তবে বিচার না পেলে আমরা কঠোর হতে বাধ্য হবো।
গ্রামবাসী জানায়, জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের জামায়াতের সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগের সঙ্গে জসিম উদ্দীনের ছেলে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদীর বিরোধ চলছিল। বিরোধ মীমাংসার জন্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হাসাদাহ বাজারে দুই পক্ষের বৈঠকে বসার কথা ছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটি থেকে একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।
এ সময় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মফিজুর রহমান, তাঁর বড় ভাই হাফিজুর রহমান, খায়রুল ইসলাম ও সোহাগ আহত হন। তাঁদের মধ্যে মফিজুর রহমান ও হাফিজুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে যশোর এবং পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে ওই দিন রাত ২টার দিকে হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়। গতকাল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে সংঘর্ষে বিএনপির তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন সদ্য বহিষ্কৃত হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৪০) ও তাঁর বাবা জসীম উদ্দিন (৬৫) এবং বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০)।
এই ঘটনায় হাফিজুর রহমানের ভাই বাদী হয়ে জীবননগর থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে মেহেদী হাসান ও তাঁর বাবা জসিম উদ্দীনকে গ্রেফতার করেছে।
জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান জানান, আজ বুধবার সকালে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিজুর রহমানের মরদেহ সকালে গ্রামে পৌছাবে। তারপর চুয়াডাঙ্গা মর্গে ময়না তদন্ত সম্পন্ন শেষে তাঁর দাফন হবে।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, আহত মফিজুর রহমান মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষে হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় ২ মার্চ একটি হত্যা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।