স্টাফ রিপোর্টার
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমানে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে করে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। যার কারনেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমানে তেল ক্রয় করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল ক্রয় করতে পাম্পগুলোতে সারা দিনই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। এত বিপুল পরিমাণ ক্রেতা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্প মালিকরা। এভাবেই চাহিদার তুলনায় অধিক হারে জ্বালানি তেল ক্রয় করলে খুব শিগগিরই বাংলাদেশের তেল সংকট হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেশ কিছু পাম্প পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বিভিন্ন পাম্পের সামনে বিপুল পরিমাণ ক্রেতারা লাইন দিয়ে জ্বালানি তেল কিনছেন। অনেকেই আবার অধিক পরিমাণের চাহিদা নিয়ে এসেও কাঙ্খিত পরিমাণ তেল না পেয়ে অর্ধেকটা তেল নিয়েই ফেরত যাচ্ছেন। পাম্পের সামনে বিপুল পরিমাণ ক্রেতাদের এই ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ। পাম্প মালিকরা বলছেন, খুব দ্রুতই দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল ক্রয় করে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় আমরা তেল বিক্রয় সীমিত করে দিয়েছি। তবে কৃষকদের ক্ষেত্রে তা শিথিল রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা একাডেমী মোড়ের মোজাম্মেল হক পেট্রোল পাম্পের সহকারী ম্যানেজার আশাবুল হক বলেন, খুলনা নোয়াপাড়া ডিপো থেকে আমরা তেল ক্রয় করি। বর্তমানে আর টাকা দিলেই তেল পাওয়া যাবে না। জ্বালানি তেল বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোটা সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ইতোপূর্বে আমরা স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার লিটার তেল বিক্রয় করেছি। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ায় ১০ থেকে ১২ হাজার লিটার তেল বিক্রয় হচ্ছে।
মেসার্স জোয়ার্দার পেট্রোলিয়ামের ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ মনজের আলী বলেন, ইতোপূর্বে দৈনিক ৫ হাজার লিটার ডিজেল, পেট্রোল অকটেন বিক্রয় হতো। বর্তমান চাহিদা ১২ হাজার লিটার হয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। চাষীরা যাতে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী তেল পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। সাধারন ক্রেতাদের ৫ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। চুয়াডাঙ্গা টার্মিনাল সংলগ্ন মামুন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মুকুল হোসেন বলেন, গতকালকে তেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি ছিল। পূর্বে দৈনিক ৫ হাজার লিটার তেল বিক্রয় হতো। বর্তমানে জ্বালানি তেলের সংকটে ১০ হাজার লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে। ডিপো থেকে আগামী রবিবার থেকে কোটা সিস্টেমে তেল দেওয়া হবে। ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারনে আমরা চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছি না।
তেল কিনতে আসা লাটাহাম্বার চালক মনিরুল ইসলাম বলেন, টাকা হাতে করে দাঁড়িয়ে আছি তবুও তেল পাচ্ছি না। তেল প্রয়োজন ৩০ লিটার অথচ ১০ লিটার নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। পাম্প মালিকরা বলছেন ডিপো থেকে তেল সরবরাহ কম। যার কারণে সীমিত পরিমাণ তেল নিয়েই আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছে অনেকে। যার কারণেই তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে।
ডিঙ্গেদহের রাজু এলপিজির মালিক মোঃ আশিকুজ্জামান রাজু বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মাসিক বিক্রয় ২১ হাজার লিটার এলপিজি। কিন্তু গ্যাসের সংকট থাকায় বর্তমান ১৫ হাজার লিটার গ্যাস পাচ্ছি যেটা দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। আমাদের সিটি গ্রুপ থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। গ্যাসের পরিপূর্ণ সরবরাহ থাকলে ক্রেতারা স্বস্তি পাবে বলে আমি মনে করি।
তেল কিনতে আসা ক্রেতা মোটরসাইকেল চালক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রায় দশ মিনিট ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এক পাম্পেই ১০ থেকে ১২ টা মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে আছে তেল নেওয়ার জন্য। হঠাৎ করে তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে বলে সকলেই নিজেদের মোটরসাইকেল একবারে ফুল টাংকি তেল নিতে এসেছে। বর্তমানে পেট্রোল তেলের কোন সংকট নেই তবে এভাবে চলতে থাকলে খুব শিগগিরই পেট্রোল তেলেরও সংকট দেখা দেবে।
ডিঙ্গেদহ হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে ক্রেতাদের এত চাপ বেড়ে যাওয়ায় আমরা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছি। ইতোপূর্বে দৈনিক ৩ থেকে ৪ হাজার লিটার বিক্রয় ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৫৭৭৬ লিটার বিক্রয় হয়েছে। রাত অব্দি হয়তো দশ হাজার লিটার বিক্রয় হতে পারে। বর্তমানে ডিজেল তেলের চাহিদা সবথেকে বেশি। সকলকে তার নিজস্ব চাহিদার অর্ধেক পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। তবে কৃষকদের ক্ষেত্রে তা শিথিল যোগ্য।
হঠাৎ করেই তেলের এত চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যেমন বিপাকে পড়েছে পাম্প কর্তৃপক্ষ তেমনি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ক্রেতাদেরও। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাবে তার আশঙ্কা করেছেন অনেকেই। তাই সকলে চাহিদার তুলনায় অধিক পরিমাণে তেল মজুদ করা শুরু করেছে। দ্রুত এই পরিস্থিতি মোকাবেলা না করলে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট দেখা দেবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের চাহিদা তিন থেকে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে ক্রেতা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পেট্রোল পাম্পগুলো ডিপো থেকে দেয়া হবে কোটা সিস্টেমে তেল



