আলমডাঙ্গার জাঁহাপুরে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা জাহাঁপুর গ্রামে আপন সহোদর ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বসতবাড়ি ভাঙচুর, জমি দখল এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে নিরাপত্তা চেয়ে আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. মোশাররফ হোসেন। গতকাল রবিবার আলমডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা থানার জাহাঁপুর গ্রামের মৃত মুনসুর মণ্ডলের ছেলে ভুক্তভোগী মো. মোশাররফ হোসেনের সাথে তার আপন ভাই ও ভাইদের পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে মোশাররফ ২০০১ সাল থেকে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু গত ২০১৬ সাল থেকে বিবাদীরা তার বাড়িঘর ভেঙে জমি দখলের পাঁয়তারা ও নানা রকম হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চললেও বিবাদীরা তা অমান্য করে ত্রাস সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গতকাল ১ নভেম্বর বিকেলে বিবাদী মোছাঃ শ্যামেলী খাতুন (৩২), মোছাঃ সাবিয়া খাতুন (৫২), হারেজ আলী (৬০), মোছাঃ কাকলী (৩৫), তমাস আলী (৪০) দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মোশাররফের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। বাড়িতে মোশাররফের অনুপস্থিতির সুযোগে তারা তার স্ত্রী, কন্যা ও বৃদ্ধা মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে বিবাদীরা মোশাররফের রান্নাঘর ও গোয়ালঘর ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লক্ষাধিক টাকা বলে জানিয়েছেন মোশাররফ।

বর্তমানে বিবাদীদের ভয়ে মোশাররফ ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে তারা।

ভুক্তভোগী মোশাররফ হোসেন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “পৈত্রিক ভিটাবাড়িতে থেকেও আমি আজ আপন ভাইদের অত্যাচারে ঘরছাড়া। আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার জানমালের নিরাপত্তা এবং এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।