স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ তৌহিদ বিন-হাসান এবং পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোঃ মোবারক হোসাইন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) কুষ্টিয়ায় এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি, কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অংশগ্রহণকারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা, পারস্পরিক সমন্বয় এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবু সাদিক, কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আলী মহসিন, সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, মুফতি আমির হামজা, মোঃ আফজাল হোসেন, মোঃ রুহুল আমিন ও মোঃ মাসুদ পারভেজ এবং জেলা সেক্রেটারি এনামুল হকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে মোঃ মোবারক হোসাইন বলেন, “১১ দল যে সাত দফা দাবি নিয়ে লংমার্চ শুরু করেছে, এটি কেবল ১১ দলের দাবি নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের দাবি। বিরোধী দলের সব আন্দোলন-কর্মসূচি জনগণের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।”
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এসব সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক বিষয় নয়; বরং সরকার, বিরোধী দল এবং সর্বোপরি জনগণের স্বার্থের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং জাতীয় সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মোবারক হোসাইন আরও বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি ও প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে জনগণের মতামত ও অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে অনুষ্ঠিত লংমার্চ কর্মসূচিগুলোতে সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কর্মসূচিগুলোর প্রতি জনসমর্থনের প্রতিফলন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানের দাবিতে চলমান এ কর্মসূচিতেও ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরি হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চকে কেন্দ্র করে আয়োজকদের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, জনগণের ন্যায্য দাবি তুলে ধরার এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে।



