আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, আনন্দঘন এবং সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

​চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী।

​সভায় জানানো হয়, চলতি বছর চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলায় সর্বমোট ১১৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উপজেলাভিত্তিক মণ্ডপের পরিসংখ্যানে জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলায় ২০টি, জীবননগর উপজেলায় ২৪টি, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৩৩টি এবং আলমডাঙ্গা উপজেলায় সর্বাধিক ৩৯টি মণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনা ও পূজা উদযাপিত হবে।

​পূজা চলাকালীন সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় জানানো হয়, পূজা উৎসবের নিরাপত্তা সুসংহত করতে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ও নাইটভিশন ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। মণ্ডপ এলাকায় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রাখতে হবে। মণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলার জন্য এবং বিশেষ করে ইভটিজিং প্রতিরোধে নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আজানের সময় থেকে নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ঢাক-ঢোল ও সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিমা বিসর্জনের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিজয়া দশমীর দিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বক্ষণিক সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন, পূজা উদযাপন পরিষদ এবং সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিত সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কোন মণ্ডপে যাতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেজন্য সকলকেই সচেতন থাকতে হবে। দূর্গা পূজার সময় অনেকেই গণমাধ্যমে বিভিন্ন রকমের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে থাকে, এবার সেরকমটি ঘটলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পূজা মন্ডপের আশেপাশে কোথাও বড় কোন মেলা বসানো যাবে না। মন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলোকসজ্জা থাকতে হবে এবং পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকের টিম গঠন করতে হবে। রাতে প্রতিমা অরক্ষিত থাকা অবস্থায় এ সকল স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চুয়াডাঙ্গায় শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হোক।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফুজ্জামান শরীফ, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, জাতীয় গোয়েন্দা নিরাপত্তা সংস্থার সহকারী পরিচালক এসএম তারিকুল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উত্তম রঞ্জন দেবনাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক উৎপল বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম সহ চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ কমিটির সদস্যরা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।