স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের হরিশচন্দ্রপুরে গভীর নলকূপ কৃষি সমবায় সমিতির প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এলাহী বকশ্ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সমিতির সাধারণ সদস্যদের পাওনা টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত বুধবার আদালতে হাজিরা দিতে আসলে তাকে আটক করা হয়।
মামলার অভিযুক্ত আসামি হলেন দামুড়হুদা উপজেলার হরিশচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে এলাহী বকশ্।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেছেন একই গ্রামের মৃত রওশন আলীর ছেলে শেখ সাদী।
ভুক্তভোগী শেখ সাদী অভিযোগ করে বলেন, ১৯৯০ সালে হরিশচন্দ্রপুর গ্রামের ৪২ জন কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দা মিলে ‘হরিশচন্দ্রপুর গভীর নলকূপ কৃষি সমবায় সমিতি’ গঠন করেন। সমিতি গঠনের পর সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়ন ও ঋণের মাধ্যমে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে কৃষিকাজের সেচ সুবিধার জন্য দুটি গভীর নলকূপ (বোরিং) খনন করা হয়। নলকূপ স্থাপনের ঋণ ও আনুষঙ্গিক খরচ ৪২ জন সদস্য যৌথভাবেই বহন করে আসছিলেন।
তবে ১৯৯২ সালে মূল অভিযুক্ত এলাহী বকশ্ কুচক্রী প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সমিতির মূল ৪২ জন সদস্যের মধ্য থেকে ২২ জনের সদস্যপদ অবৈধভাবে বাতিল করেন। বিষয়টি নিয়ে সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে, অভিযুক্ত এলাহী বকশ্ সবাইকে আশ্বস্ত করেন যে সমিতির যাবতীয় টাকা তহবিলে জমা রয়েছে এবং হিসাব শেষে প্রত্যেকের লভ্যাংশ ও পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ না পেয়ে এবং অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ২০২৩ সালে শেখ সাদীসহ কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএডিসি) যোগাযোগ করেন। সেখানে অনুসন্ধানের পর তারা জানতে পারেন, ২০১৬ সালেই উক্ত সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে এবং সমিতির ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী জানায়, প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর, ভুক্তভোগীদের পক্ষে শেখ সাদী বাদী হয়ে ২০২৫ সালে প্রথমে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে জালিয়াতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে এলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ কোর্টে প্রধান অভিযুক্ত এলাহী বকশকে আসামি করে ১ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বর্তমানে উক্ত মামলার বিচারকার্য আদালতে চলমান রয়েছে। এ মামলার ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত এলাহী বকশকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী কৃষকরা তাদের কষ্টের অর্জিত অর্থ ফেরত পেতে এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সুষ্ঠু বিচারের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।



