চাকরির পেছনে না ছুটে ফলবাগান-নার্সারি গড়ে সফল হরিণাকুণ্ডুর রাসেল

হরিণাকুণ্ডু প্রতিনিধি
চাকরির পেছনে না ছুটে স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শিক্ষিত যুবক রাসেল হুসাইন। একক প্রচেষ্টায় তিনি গড়ে তুলেছেন বিষমুক্ত ও বৈচিত্র্যময় ফলের একটি উদ্যান। উপজেলার নঔশের মালিথা এলাকার বাসিন্দা রাসেল আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিজের মেধা-পরিশ্রমে বাড়ির আঙিনা ও বাগানে বিভিন্ন ধরনের বারোমাসি ও বিদেশি ফলের চাষ করছেন। কোনো সরকারি অনুদান বা আর্থিক সহায়তা ছাড়াই তিনি নিজের উদ্যোগে এ ব্যতিক্রমী ফলবাগান গড়ে তুলেছেন।
রাসেলের বাগানে রয়েছে বারোমাসি সজিনা, তাইওয়ান ও পিংক পেয়ারা, বারোমাসি টক কুল, ভিয়েতনামি সুপার আরলেস, মিষ্টি ও রসালো পিংক কাঁঠাল, শাহী পেঁপে, মাল্টা ও কমলাসহ বিভিন্ন জাতের ফল। শুধু ফল উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নন তিনি। নিজ বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন চারা উৎপাদনের একটি নার্সারিও।
উদ্যোক্তা রাসেল জানান, আগামীতে রাম্বুটান, অ্যাভোকাডো ও পার্সিমন ফল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করলে কৃষিকাজের মাধ্যমেও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। তার কমলা ও অন্যান্য ফলের বাগান দেখে ইতোমধ্যে এলাকার অনেকেই এমন উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
নিজের চাষাবাদকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে রাসেল সম্প্রতি একটি ৪ স্ট্রোক ইঞ্জিনচালিত ১২০ সিসি মিনি পাওয়ার টিলার কিনেছেন। এ যন্ত্রের মাধ্যমে সহজেই জমির মাটি আলগা করা, আগাছা পরিষ্কার এবং মাটি ঝুরঝুরে করে চাষের উপযোগী করা যাচ্ছে।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বসির উদ্দীন বলেন, রাসেল একজন অত্যন্ত উৎসাহী ও সফল উদ্যোক্তা। আমি নিয়মিত তার চাষাবাদের খোঁজখবর রাখি। সম্প্রতি তিনি একটি আধুনিক মিনি টিলার ক্রয় করেছেন, যা তার চাষাবাদে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, শিক্ষিত যুবকদের এমন উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করছে। বেকারত্ব দূরীকরণ ও নিরাপদ ফল উৎপাদনে রাসেলের এ উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।