স্টাফ রিপোর্টার
সড়ক দুর্ঘটনায় একজন মানুষ মারা গেলে শুধু একজন মানুষই হারিয়ে যান না, পুরো পরিবারই যেন শেষ হয়ে যায়। আবার কেউ গুরুতর আহত হলে অনেক সময় বেঁচে থেকেও মৃতের মতো জীবনযাপন করতে হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আহত ও নিহত ২০টি পরিবারের মধ্যে ৮২ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চুয়াডাঙ্গা সার্কেলের উদ্যোগে আয়োজিত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, একটি ছেলেকে দেখলাম, তার পায়ে রড লাগানো হয়েছে। সে চাইলেও স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবে না। সুস্থ হতে তার দীর্ঘ সময় লাগবে। যারা সড়ক দুর্ঘটনায় হাত-পা হারাচ্ছেন, তারা সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন। নানা শারীরিক জটিলতা ও রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন।
সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে লুৎফুন নাহার বলেন, যানবাহন চালানোর সময় চালকদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে, যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। পথচারী, মোটরসাইকেল চালকসহ সড়কে চলাচলকারী প্রত্যেককেই সতর্ক থাকতে হবে।
সড়ক দুর্ঘটনায় একটি শিশুর বাবাকে হারানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আজ একটি ছোট শিশুকে দেখলাম, যে সড়ক দুর্ঘটনায় সারা জীবনের জন্য তার বাবাকে হারিয়েছে। একজন পিতৃহারা সন্তান কিংবা মাতৃহারা সন্তানই বুঝতে পারে বাবা-মায়ের মূল্য কতটা। আজ যে ক্ষতিপূরণের অর্থ দেয়া হলো, হয়তো তা সামান্য। জীবনের সব প্রতিকূলতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে গেলে এক লাখ বা পাঁচ লাখ টাকা খুব বেশি নয়। তবে এই টাকা দিয়ে আপনারা কিছু করার চেষ্টা করবেন, যাতে আপনার ও আপনার পরিবার কিছুটা হলেও উপকৃত হয়। দুর্ঘটনা কমাতে শুধু সরকার নয়, আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। চালক, পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের একটু সচেতনতাই পারে একটি জীবন, একটি পরিবার এবং একটি ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এই আর্থিক সহায়তা তাদের কঠিন সময়ে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম. বি. এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী, বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) লিটন বিশ্বাস, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (শহর ও যানবাহন) আমিরুল ইসলাম, জেলা বাস-মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মইনুদ্দিন এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চুয়াডাঙ্গা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২০ পরিবারের মাঝে চেক বিতরণকালে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার



