ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া চুয়াডাঙ্গা শহীদ হাসান চত্বর এলাকায় ৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, জনমনে স্বাস্তি,  

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়বাজার হাসান চত্বর এলাকায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত চলা এই অভিযানে হাসান চত্বর ও এর আশেপাশের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি অবৈধ দোকানপাট সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়েছে। এতে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়। তবে সাধারন পথচারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বড়বাজারের হাসান চত্বর এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখল করে বিভিন্ন ক্ষুদ্র দোকানঘর গড়ে তুলেছিলেন। এর ফলে প্রতিদিন এই ব্যস্ততম সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো এবং পথচারীদের হাঁটাচলায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। শহরের শৃঙ্খলার স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের সার্বিক দুর্ভোগ লাঘবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ অভিযানে জেলা প্রশাসনকে প্রত্যক্ষভাবে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। অভিযান চলাকালে দুর্ঘটনাসহ যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পৌরসভার কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে তৎপর ছিলেন।
অভিযানস্থলে উপস্থিত চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার এস এম আব্দুর রউফ শিপলু জানান, শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, ফুটপাত পথচারীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা এবং যানজট নিরসনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে কোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আজকে যে সকল অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হলো, পরবর্তীতে যদি কেউ পুনরায় উক্ত জায়গা দখল করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ পথচারী ও সচেতন নাগরিক সমাজ। তাঁদের মতে, এই অভিযানের ফলে হাসান চত্বর এলাকার রাস্তা অনেকটা প্রশস্ত হয়েছে এবং চলাচলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে এই উচ্ছেদকৃত এলাকাগুলো ভবিষ্যতে দখলমুক্ত রাখার জন্য জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
 এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে পৌরসভার শুধু মালামাল অপসারণের সহায়তা করেছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।