আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় টিএমএসএস এনজিওর এক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অফিসের আয়াকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার সকালে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বাবুপাড়াস্থ টিএমএসএস অফিসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আয়া রেবেকা খাতুন ও আলমডাঙ্গা শাখার ম্যানেজার শেখ আল-আমিন থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার এক্সচেঞ্জপাড়ার বাসিন্দা মোশারফ হোসেনের স্ত্রী রেবেকা খাতুন (৪৫) দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে টিএমএসএস এনজিওর আলমডাঙ্গা শাখায় আয়া পদে কর্মরত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে শেখ আল-আমিন ওই শাখার ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। রেবেকা খাতুনের দাবি, যোগদানের পর থেকেই অফিসে নানা অনিয়ম শুরু হয় এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতে থাকে। এসব বিষয়ে কাউকে কিছু বললে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রেবেকা খাতুন আরও জানান, কয়েকদিন আগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অফিস পরিদর্শনে এলে তাকে বলা হয়, পূর্বে কর্মরত তানিয়া নামের এক সদস্যের ডিপিএসের টাকা ম্যানেজার খরচ করে ফেলেছেন। তিনি এ কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিনা নোটিশে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তাকে অফিসে হাজির হওয়ার জন্য দুটি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশ অনুযায়ী বুধবার সকালে অফিসে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার পর তিনি গত এপ্রিল মাসের বেতন দাবি করেন। এ সময় ম্যানেজার ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং অফিসের আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে তার গলা চেপে ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন রেবেকা। পরে তাকে অফিসের বাইরে রাস্তায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং অফিসে এলে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি তার।
অন্যদিকে টিএমএসএস আলমডাঙ্গা শাখার ম্যানেজার শেখ আল-আমিন তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, আয়া রেবেকা খাতুন চাকরিরত অবস্থায় এক সদস্যের জমা দেওয়ার টাকা অফিসে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরে বিষয়টি স্বীকার করে অফিস থেকে চলে যান। তাকে অফিসে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বুধবার অফিসে হাজির হওয়ার পর কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়ে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি থেকে লোকজন ডেকে এনে তার ও অফিসের অ্যাকাউন্ট্যান্টের ওপর হামলা চালান এবং একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এ বিষয়ে ম্যানেজার শেখ আল-আমিন আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” টাকার বিষয়ে জানতে অফিসের সাবেক সদস্য তানিয়া খাতুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আয়া রেবেকা খাতুনের সঙ্গে তার কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন হয়নি।
আলমডাঙ্গায় টিএমএসএস এনজিও অফিসের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আয়াকে মারধরের অভিযোগ



