স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফুন নাহার। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল।
সভায় জেলার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এসময় সীমান্ত জেলা হওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ও পুলিশকে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানজট কমাতে এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রাখার তাগিদ দেওয়া হয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এবং গুজব ছড়িয়ে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যাতে সাধারণ মানুষ সঠিক মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারে।
এ সময় প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, চুয়াডাঙ্গায় বর্তমানে জ্বালানি তেলের শংকটাপন্ন অবস্থা বিরাজ করছে। পাম্পের বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবেলায় অনেক পাম্পে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছেন। আমার কাছে অভিযোগ আছে স্বেচ্ছাসেবকরা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজেদের পরিচিতজনদের দ্রুত তেলের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। এ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আরোপ করার অনুরোধ করছি। চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমির মাটি কাটা হয় কিন্তু বর্তমানে এ সংক্রান্ত বিষয়ে মাত্র দুটি মামলা করা হয়েছে। যা পুলিশ কর্তৃক করা হয়েছে। ফসলে জমির মাটিকাটা একটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, চুয়াডাঙ্গার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। যেকোনো মূল্যে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয় এমন কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করা হবে। বিশেষ করে বাল্যবিবাহ রোধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এবং জেলার শিক্ষা ব্যবস্থার আরো উন্নতি করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি করতে হবে। জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরসহ সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে।
পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান বলেন, পৌর এলাকা থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জেলা ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি করা হয়েছে। প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে। পুলিশি টহল ব্যাপক হারে জোরদার করা হয়েছে এবং জেলায় অপরাধের হার কমিয়ে আনা হচ্ছে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ডাক্তার হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান সাহেল, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সহকারি কমিশনার মির্জা শহিদুল, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক কামরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সনি প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল



