চুয়াডাঙ্গায় সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি টেস্টের প্রশ্ন ফাঁস, পরীক্ষা স্থগিত, নতুন প্রশ্নে পরবর্তী পরীক্ষা

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৭ সালের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে পরবর্তী পরিক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্র। নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষাগুলো নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কমিটির সব সদস্যকে শোকজ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাসের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে রাতে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। জানাজানি হলে সকালে নতুন করে প্রশ্নপত্র করার পর আবারো ফাঁস হয়।
গতকাল সোমবার সকালে প্রশ্নপত্র ফাসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নির্ধারিত বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লুৎফুন নাহার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যালয় থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জড়িতদের শনাক্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এই বিদ্যালয় থেকেই প্রশ্ন ফাস হয়েছে। এ ঘটনায় পরীক্ষা কমিটির সব সদস্যকে শোকজ করা হয়েছে। পরবর্তী পরিক্ষার সব প্রশ্নপত্র বাতিল করে নতুন প্রশ্নে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি কঠোরভাবে দেখছি। জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।”
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের জনি ফটোকপি দোকান থেকে ২০২৭ সালের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে প্রশ্নপত্র কেনাবেচা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর জনি ফটোকপি দোকানে অভিযান চালান সহকারী কমিশনার মির্জা শহিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
ঘটনার পর বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরীক্ষা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে শোকজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বলেন, গত ১৫ তারিখে গনিত পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তীতে গত রাতে টেস্ট পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত এই বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত পরীক্ষাটি আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে। আগে অনুষ্ঠিত হওয়া গনিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।