দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে ভারতীয় দুই যাত্রীর পণ্য আটকের অভিযোগ

দর্শনা অফিস
দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর দুই ভারতীয় যাত্রীর কাছ থেকে কসমেটিকস, শাড়ি ও অন্যান্য পণ্য আটকের অভিযোগ উঠেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বিরুদ্ধে। আটক পণ্যের কোনো রসিদ বা লিখিত কাগজ দেওয়া হয়নি এবং পণ্য ফেরত না দিয়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও পাসপোর্ট লক বা ব্ল্যাকলিস্ট করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই দুই ভারতীয় যাত্রী।
তবে বিজিবির দাবি, তাঁদের মধ্যে একজন বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে এসে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত পরিমাণ পণ্য বহন করছিলেন। এ কারণে অতিরিক্ত পণ্য আটক করা হয়েছে। বিজিবি-৬-এর পরিচালক জানিয়েছেন, বিজনেস ভিসায় এভাবে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত পণ্য আনার সুযোগ নেই। আটক পণ্য কাস্টমসে জমা দেওয়া হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে দর্শনা কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম জানিয়েছেন, বিজিবি আটক করা পণ্য কাস্টমসে জমা দেওয়ার পর পণ্যের ধরন, পরিমাণ ও আটকের কারণ যাচাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, পণ্য কাস্টমসে জমা না পড়া পর্যন্ত কাস্টমসের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।
অভিযোগকারী দুই ভারতীয় যাত্রীর একজন রাহেন মন্ডল। তাঁর বাড়ি ভারতের নদীয়া জেলার বানপুর বাগানপাড়া এলাকায়। অপরজন অভিজিৎ বিশ্বাস তাঁর বাড়ি নদীয়া জেলার গাজনা পশ্চিমপাড়ায়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাহেন মন্ডল বিজনেস ভিসায় এবং অভিজিৎ বিশ্বাস টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
তাঁদের অভিযোগ, ভারতের গেদে সীমান্তে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তাঁরা দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তাঁদের সঙ্গে কসমেটিকস, শাড়ি ও কিছু খাবারজাতীয় পণ্য ছিল। বাংলাদেশে প্রবেশের পর দর্শনা বিজিবি চেকপোস্টে তাঁদের মালামাল তল্লাশি করে কিছু পণ্য রেখে দেওয়া হয়।
রাহেন মন্ডলের দাবি, তাঁরা ছোট ছোট ব্যাগে করে এসব পণ্য বহন করেন এবং কাস্টমসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কর পরিশোধ করে বাংলাদেশে নিয়ে এসে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। তাঁর অভিযোগ, পণ্য আটকের পর তাঁকে কোনো রসিদ বা লিখিত কাগজ দেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারী অপর যাত্রী অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, তাঁদের কাছে থাকা কসমেটিকস, থ্রি-পিস ও শাড়ির মধ্যে কিছু পণ্য আটক করা হয়েছে। পণ্য অবৈধ হলে কাস্টমসের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। কিন্তু তা না করে তাঁদের পাসপোর্ট লক বা ব্ল্যাকলিস্ট করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভিডিও কথোপকথনে ওই যাত্রীকে আরও বলতে শোনা যায়, আটক পণ্য কাস্টমসে জমা দিয়ে মেমো করার অনুরোধ করলেও তাঁরা কোনো রসিদ পাননি। তাঁর দাবি, চারটি শাড়ির মধ্যে দুটি ফেরত দেওয়া হলেও কসমেটিকসসহ আরও কিছু পণ্য ফেরত দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বিজিবি-৬-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, সংশ্লিষ্ট যাত্রী বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এভাবে অতিরিক্ত পণ্য আনার সুযোগ নেই। বিজনেস ভিসায় নমুনা হিসেবে সীমিত পরিমাণ পণ্য আনা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত পণ্য আনা ব্যাগেজ বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, আটক অতিরিক্ত পণ্য কাস্টমসে জমা দেওয়া হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। ওই যাত্রীর কাছে পণ্যের পরিমাণ বেশি থাকায় সেগুলো আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদুল আলমের বক্তব্যে বিষয়টির ভিন্ন দিক উঠে এসেছে। তিনি বলেন, অপর্যটক যাত্রীদের জন্য ২০২৫ সালের ব্যাগেজ বিধিমালা রয়েছে। স্থলপথে আসা অপর্যটক যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিধিমালায় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য আনার বিধান রয়েছে। কোনো পণ্য ব্যাগেজ বিধিমালার বাইরে থাকলে সেটি কীভাবে আটক করা হয়েছে এবং কোন শ্রেণিতে পড়ছে, তা পণ্য কাস্টমসে জমা পড়ার পর যাচাই করতে হবে।
রাজস্ব কর্মকর্তা আরও বলেন, ব্যাগেজ বিধিমালার আওতায় কোনো পণ্য আটক হলে তা কাস্টমসে জমা দেওয়ার কথা। পণ্য যদি ব্যাগেজ বিধিমালার বাইরে থাকে, তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অবাধে আমদানিযোগ্য হলে নির্ধারিত কর-শুল্ক আদায় করে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। শর্তযুক্ত আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি বলেন, বিজিবি কোথা থেকে পণ্য আটক করেছে বা কী প্রক্রিয়ায় করেছে, সে বিষয়ে কাস্টমসের কাছে তথ্য নেই। পণ্য কাস্টমসে জমা পড়লে পণ্য ও আটকের কারণ যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।