দর্শনা অফিস
দামুড়হুদায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আবু ছিদ্দিককে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার পরদিন স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছামাদকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চণ্ডীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা আব্দুস ছামাদ বাদী হয়ে দর্শনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নারীসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত ৯টার দিকে দর্শনা থানার একটি পুলিশ দল চণ্ডীপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডীপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আবু ছিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে হাতে হ্যান্ডকাপ পরানো হয়। ঠিক সে সময় তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর আকস্মিক হামলা চালান এবং ধস্তাধস্তি করে তাকে ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনায় দর্শনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্লা আরিফুল ইসলাম ও কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম আহত হন। পরে হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থাতেই আবু ছিদ্দিক পালিয়ে যান।
ঘটনার পর পুলিশি অভিযানে নারী-পুরুষসহ মোট নয়জনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,ফুলন হালদার, আলম, সোনালী হালদার, কনা রানী, নাসিমা আক্তার, ফরহাদ আলী, ফিরোজ হোসেন, লক্ষণ হালদার, আশারেফ মন্ডল ।
এদিকে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চণ্ডীপুর তেঁতুলতলা এলাকায় স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছামাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
দর্শনা থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে আব্দুস ছামাদ উল্লেখ করেন, আগের রাতে পুলিশের কাছ থেকে আওয়ামী লীগ নেতা আবু ছিদ্দিক হ্যান্ডকাপসহ পালিয়ে যাওয়ার পরদিন সকালে তিনি তেঁতুলতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় শুকুর আলী, সাঈদ ও মেহেদী নামের তিন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও কাঠের বাটাম নিয়ে তার ওপর চড়াও হন। হামলাকারীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। এ সময় তারা এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামলার শিকার আব্দুস ছামাদ চণ্ডীপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তার ওপর এই হামলার সঙ্গে আগের রাতে আওয়ামী লীগ নেতা আবু ছিদ্দিককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, হামলায় জড়িতদের কেউ কেউ বর্তমান সময়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও অতীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুল্লাহ জানান, আওয়ামী লীগ নেতা আবু ছিদ্দিককে আটক করতে গেলে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় আমাদের দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পলাতক ওই আসামিকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মুখলেসুর রহমান জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত ৯ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতা আব্দুস ছামাদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।



