স্টাফ রিপোর্টার
সাবেক স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মারধর, হয়রানি, মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেছেন আলমডাঙ্গার কোর্টপাড়া এলাকার বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন আহমেদ। এসব ঘটনায় নিজে ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালাহ উদ্দিন এসব অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগে সাবেক স্ত্রী আসামা আক্তার, তাঁর মা, দুই ভাই ও ভাবিসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নাম উঠে এসেছে।
লিখিত বক্তব্যে সালাহ উদ্দিন বলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে পারিবারিক অশান্তি ও মতের অমিলসহ নানা কারণে তিনি স্ত্রী আসামা আক্তারকে তালাক দেন। তাঁর দাবি, তালাকের নোটিশ পাঠানোর দুই দিন পর তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার হাজারীবাগ থানায় যৌতুকের মামলা করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক মাস ছয় দিন কারাগারে থাকার পর হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি।
সালাহ উদ্দিনের দাবি, জামিনে মুক্ত হয়ে ঢাকার মিতালী রোডের ভাড়া বাসায় গিয়ে তিনি দেখতে পান, সেখানে থাকা তাঁর বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় হাজিরা দিতে ঢাকা জজ কোর্টে গেলে সাবেক স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্যে তাঁকে মারধর করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁর ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে সাবেক স্ত্রীর ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান রনি পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাঁর ভাই চুয়াডাঙ্গা আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় গত ২৭ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আবারও মারধর করেন বলেও দাবি করেন সালাহ উদ্দিন।
সালাহ উদ্দিনের দাবি, তালাকের প্রায় ২০ মাস পর তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় যৌতুকের মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। নিজেকে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া সালাহ উদ্দিন এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
তবে সালাহ উদ্দিনের করা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর সাবেক স্ত্রী আসামা আক্তার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা চাইলেন সালাহ সাবেক স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ



