দাম না পাওয়ায় আউশের বাম্পার ফলনেও জীবননগরের কৃষকের মুখে হাসি নেই

তারিকুর রহমান, জীবননগর
জীবননগরের মাঠজুড়ে এখন পাকা আউশ ধান। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম থাকায় এবং ধানে রোগবালাই না হওয়ায় ফলনও হয়েছে ভালো। কোথাও ধান কাটছেন কৃষক, কোথাও চলছে মাড়াই, আবার কোথাও রোদে শুকিয়ে ঘরে তোলা হচ্ছে নতুন ধান। তবে বাম্পার ফলন হলেও ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় কৃষক-কৃষাণীর মুখে নেই হাসি। বর্তমানে জীবননগরের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের শুকনো আউশ ধান বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ৯৮০ টাকা মণ দরে। আর কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা মণ। কৃষকদের অভিযোগ, ধানের উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর কম হওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। প্রতি বিঘা জমিতে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। বর্গাচাষিদের লোকসানের পরিমাণ আরও বেশি।
জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, আউশ ধান পেকে সোনালি বর্ণ ধারণ করেছে। কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে। কৃষকদের পাশাপাশি কৃষাণীরাও ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে অংশ নিচ্ছেন।
কৃষকেরা জানান, ধান উৎপাদনে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন।
ধানচাষি হাসান আহম্মেদ বলেন, দেড় বিঘা জমিতে আউশ ধান চাষ করেছেন। ধান কাটার উপযোগী হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধান মাড়াই করে ঘরে তুলতে আরও প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হবে। জমিতে ২২ থেকে ২৩ মণ ধান হতে পারে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী হিসাব করলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও প্রায় ৩ হাজার টাকা লোকসান হবে বলে জানান তিনি।
আরেক চাষি মিনারুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে আউশ ধান চাষ করে তিনি ১৫ মণ ধান পেয়েছেন। এতে তাঁর মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। নিজের শ্রমের মূল্য হিসাবের বাইরে রেখেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আউশ ধান চাষ করতে গিয়ে উৎপাদন খরচই উঠছে না। এখন জমির মহাজন ও সারের দোকানের টাকা কীভাবে দেব?”
এমন পরিস্থিতিতে অনেক কৃষকই ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে ধান চাষে আগ্রহও কমে যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকেরা।
জীবননগরের ধান ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের শুকনো ধান ৯৫০ থেকে ৯৮০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা ধানের দাম ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। মহাজনের টাকা পরিশোধ করতে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। এ ছাড়া বাজারে ধানের চাহিদাও কম। পুরোনো ধানই বিক্রি হচ্ছে না। ফলে নতুন ধানের দামও কম। ব্যবসায়ীরাও ধান কিনে বাইরে বিক্রি করতে পারছেন না।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, উপজেলায় বারি-৯৮, বারি-৭৫, খাটো বাবু, রডমিনি জাতসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। এবার মোট ৭ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে ধানের বাজারমূল্য কিছুটা কম। কিছুদিন সংরক্ষণ করে পরে বিক্রি করতে পারলে কৃষকেরা ভালো দাম পেতে পারেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।