স্টাফ রিপোর্টার
আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকা একটি সেফটি ট্যাংকের ভেতর থেকে একটি শেয়াল উদ্ধার করেছে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থার রেসকিউ টিম। প্রায় দুই দিন ধরে শেয়ালটি ট্যাংকের ভেতরে আটকে ছিল। পরে কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে রেসকিউ টিম গিয়ে সেটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
জানা গেছে, কলেজ প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করার সময় শ্রমিকদের নজরে আসে সেফটি ট্যাংকের ভেতরে শেয়াল আটকে থাকার বিষয়টি। তাঁরা বিষয়টি কলেজ প্রশাসনকে জানালে অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান শেয়ালটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেন। পরে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থার রেসকিউ টিমকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেসকিউ টিম। পরিদর্শনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সেফটি ট্যাংকটির কোনো ঢাকনা না থাকায় অসাবধানতাবশত প্রায় ১২ ফুট গভীর ট্যাংকের ভেতরে পড়ে যায় শেয়ালটি। সেখানে দুই দিন আটকে থাকায় এটি দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল।
পরিস্থিতি বিবেচনায় রেসকিউ টিমের প্রধান মো. মাহমুদুল হাসান ট্যাংকের ভেতরে নেমে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শেয়ালটিকে নিরাপদে ট্যাংকের ভেতর থেকে তুলে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।
শেয়ালটি উদ্ধারের পর উপস্থিত সবার মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা যায়। কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থার রেসকিউ টিমের বন্যপ্রাণী উদ্ধারের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়।
উদ্ধারকাজের সময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মহিউদ্দিন মোহিত, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থার সভাপতি সাঈদ এম হিরন, সাধারণ সম্পাদক আরাফাত রহমান এবং সংগঠনের উপদেষ্টা ও কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রধান ড. মাহাবুব আলম।
রেসকিউ টিমের সদস্য ছিলেন মো. মাহমুদুল হাসান, স্বাধীন আলী, মাহফুজুর রহমান সবুজ, আকাশ আহমেদ ও সাইদুজ্জামান শাওন।
এ ঘটনায় ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কলেজ প্রাঙ্গণের অরক্ষিত সেফটি ট্যাংকসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থান দ্রুত নিরাপদ করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের সেফটি ট্যাংক থেকে শেয়াল উদ্ধার



