স্টাফ রিপোর্টার
‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ এই স্লোগানে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবনী নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ প্রাঙ্গণে জেলা বিএনপির আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, আজ এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দলের যারা নেতৃবৃন্দ আছেন, তাদেরকে বিনীতভাবে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং উপজেলায় যথাযথ সম্মান ও ভদ্রতা দিয়ে চলার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। ছাত্রদল বা যুবদল কারও কোনো অপমানমূলক কর্মকাণ্ড দেখলে তা ক্ষমার অযোগ্য হবে। ৫ তারিখের পর থেকে এ পর্যন্ত সমস্ত তালিকার সম্পাদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে সে তালিকা অনুযায়ী চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মাদকবাজদের সঙ্গে যে দলের নেতাকর্মীরাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের যাচাই করার জন্য স্পেশাল টিম আর্মিসহ গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে অল্প সময়ের মধ্যেই দল থেকে বিচ্যুত করা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন।
তিনি আরও বলেন, আমার বাড়ি, ব্যক্তিত্ব এবং অবস্থান দলের পক্ষে রাখার জন্যই আমাকেই শক্ত হতে হবে। অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জয় হয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর এই মানুষের সেবামূলক যেসব কার্যক্রম রয়েছে, তা যদি আমরা করতে না পারি বা ব্যর্থ হই বা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হই, তবে বিগত দিনের মতো অবস্থা আমাদের হবে। জাতীয়তাবাদী দল কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, এটা সেবামূলক একটি সংগঠন। যেখানে জনগণের হয়ে কথা বলতে হবে। আমরা প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের হাতে ছোট ছোট দায়িত্ব দিয়ে পরীক্ষা করেছি। বেশিরভাগই তাদের নিজেদের লোকজন দিয়ে কাজ করিয়ে থাকে। কিন্তু দলের কোনো চেতনা নেই। তারা অন্যান্য দলের কর্মীদের দিয়ে কাজ করায়।
বিগত ১৭ বছর আমরা ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছি। অনেকে অনেক কথাই বলে। কিন্তু কারা বিপদে পাশে ছিল এবং ছিল না, তাদেরকে আমরা জানি। এগুলো আমাদের কাছে তালিকাভুক্ত আছে। তাই হতাশ হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সরদার আলী হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আখতার হোসেন জোয়ার্দার, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ উর নাহার রিনা, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু।
জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মওলানা আনোয়ার হোসেন, জেলা জাসাসের সভাপতি সহিদুল হক বিশ্বাস, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শরিফুল আলম বিলাস, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব একরামুল হক, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা পারভীন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এম.এ. হাসান, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহাবুব হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মীর উজ্জ্বল হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সালাউদ্দীন আহমদ রাজু, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত, সদর উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি রকিবুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মওলানা সাফি, আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. ইদ্রিস আলী ও আলমডাঙ্গা পৌর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স সুলতান।
এ সময় আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও পৌর বিএনপির সকল ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বিকেল ৫টায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আয়োজনে সাহিত্য পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জেলা জাসাসের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীসহ অতিথি শিল্পীরা মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দসহ নেতাকর্মীরা সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ করেন।
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দ্বিতীয় দিনে আলোচনা সভায় শরীফুজ্জামান শরীফ



