ছাগলের ঘরের পাশ থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাকা ঘরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলো কার্পাসডাঙ্গার অসহায় আমির দম্পতি

রাজু আহাম্মেদ, কার্পাসডাঙ্গা
দীর্ঘদিন ধরে ছাগলের ঘরের একপাশে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই নিঃস্ব দম্পতি অবশেষে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাকা ঘরে। দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ভূমিহীন পাড়ায় অসহায় বৃদ্ধ আমির হোসেন ও তার স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনের হাতে আশ্রয়ণের একটি ঘরের চাবি তুলে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্পাসডাঙ্গা ভূমিহীনপাড়ায় মৃত রহিম বকশের ছেলে সোবহান আলীর বাড়ির সামনে একটি ছাগলঘরের এক কোণে বহু বছর ধরে বসবাস করছিলেন আমির হোসেন ও সুমাইয়া খাতুন। তাদের এই করুণ মানবিক অবস্থা স্থানীয়দের কষ্ট দিলেও নিজস্ব জমি বা সামর্থ্য না থাকায় কোনো সুরাহা হচ্ছিল না। বিষয়টি নজরে এলে মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলম। তিনি কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে কোনো পরিত্যক্ত বা খালি ঘর আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।
তদন্তে জানা যায়, বাঘাডাঙ্গা এলাকার ছয়ফল নামে এক ব্যক্তির নামে একটি ঘর বরাদ্দ হলেও নির্মাণের পর থেকে তিনি সেখানে কখনও বসবাস করেননি। খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় বাঘাডাঙ্গায় ওই ব্যক্তির নিজস্ব জমি ও বাড়ি রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে ঘরটি প্রকৃত ভূমিহীন আমির হোসেনকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
গতকাল সোমবার সকালে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য, গ্রামপুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরটি আমির হোসেন ও সুমাইয়া খাতুন দম্পতির হাতে তুলে দেন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলম স্যারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আমরা অনিয়ম রোধ করে ঘরটি উদ্ধার করি এবং প্রকৃত একজন অসহায় ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসিত করতে পেরেছি। নিজেদের একটি পাকা ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আমির হোসেন ও সুমাইয়া খাতুন। অন্যদিকে প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।