অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের প্রতিবাদে মেহেরপুরে তহবাজার বন্ধ প্রতিদিন এ বাজারে কেনা-বেচা হয় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা

মেহেরপুর অফিস
মেহেরপুর শহরের সর্ববৃহৎ কাঁচা বাজার বড় বাজারের তহবাজারে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই তহবাজারের সব কাঁচামালের দোকানপাট বন্ধ রেখে মূল সড়কের ওপর অবস্থান নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ধর্মঘটের কারণে বাজারে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সরেজমিনে তহবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কাঁচা বাজারের সকল দোকানপাট সম্পূর্ণ বন্ধ। মূল সড়কের ওপর বেঞ্চ ও চট বিছিয়ে অবস্থান নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কাঁচামাল বেচাকেনার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট খাজনা নির্ধারণ করা থাকলেও বর্তমান ইজারাদাররা তা মানছেন না। ইচ্ছে মতো অতিরিক্ত ও অনিয়মভিত্তিক খাজনা আদায় করা হচ্ছে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও পাইকারি সব ধরনের ব্যবসায়ীরাই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তহবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মের বাইরে কোনো অতিরিক্ত টাকা দেব না। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা রবিবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম। বলা হয়েছিল সরকার নির্ধারিত হারে খাজনা আদায় না করা হলে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাজার বন্ধ থাকবে। কিন্তু প্রশাসন বা ইজারাদার আমাদের দাবিতে কর্ণপাত করেনি তাই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। এদিকে হঠাৎ কাঁচা বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে আসা সাধারণ মানুষ। বাজারে এসে ফাঁকা দোকান দেখে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অতি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করে এ সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
ব্যবসায়ী নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের এই অনড় কর্মসূচি ও কাঁচাবাজার বন্ধের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। প্রতিটি পণ্যের উপর তারা খাজনা নিতে চাচ্ছেন। ১০ থেকে ২০গুন বেশি হারে খাজনা নিচ্ছেন। এরই প্রতিবাদ করছি আমরা। আমরা চায় এর সুষ্ঠু সমাধান। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা কেনা-বেচা হয় এ বাজারে।
এদিকে জেলার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে আসেন এ বাজারে। এখানে ভিড় জমান রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। সেসব পণ্য কিনে নিয়ে যান তারা। বাজার বন্ধ থাকায় লোকসানের মুখে পড়বেন কৃষকরা। তাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হবে তাদের। ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারেন কৃষকরা। বাজারের ইজারাদার সাদাত হোসেন বুড়োর দাবি, আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে এক টাকাও বেশি নিচ্ছি না। বরং তিন দফায় পরিবর্তন করে খাজনা কমানো হয়েছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।