মেহেরপুরে এনএসআই ও পুলিশ পরিচয়ে মাদক উদ্ধারে গিয়ে আটক যুবক পুলিশের পোশাক ও ওয়াকিটকি উদ্ধারের দাবি স্থানীয়দের

মেহেরপুর অফিস
মাদক উদ্ধারের নামে বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়েছিলো যুবক, তার পরিচয় জানতে চাইলে সে কখনো পুলিশ, কখনো এনএসআই বললেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের জেরার চাপে বেরিয়ে আসে পরিচয়। ঘটনাটি ঘটেছে মেহেরপুর সদর উপজেলার রায়পুর গ্রামে। এনএসআই সদস্যের পরিচয় দিয়ে মাদক উদ্ধারে যাওয়া মামুনের আসল পেয়ে তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী। তার কাছে পুলিশের পোশাক, ওয়াকিটকি, পরিচয়পত্র ও ক্যাপ পেয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুয় পরিচয় দেওয়া মামুন মেহেরপুর সদর উপজেলার আশরাফপুর গ্রামের কলিমুদ্দীনের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রায়পুর গ্রামের হাইলদ্দি শেখের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, বিকেল থেকেই সন্দেহজনক ভাবে আটক ঐ যুবককে এলাকায় ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে মাদক উদ্ধারের কথা বলে হাইলদ্দি শেখের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন তিনি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় প্রথমে নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন মামুন। পরে একপর্যায়ে নিজেকে এনএসআই সদস্য দাবি করে মাদক উদ্ধারে এসেছেন বলে জানান।
তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাকে ঘিরে রেখে বিস্তারিত জানতে চাইলে মামুন দাবি করেন, তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলায় কর্মরত। বিষয়টি যাচাই করতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় খোঁজ নেওয়া হয়। তবে সেখানে মামুন নামে কোনো সদস্য কর্মরত নেই বলে নিশ্চিত হওয়া যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মেহেরপুর সদর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মামুনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, মামুনকে আটকের সময় তার কাছে পুলিশের পোশাক, ওয়াকিটকি, আইডি কার্ড ও ক্যাপ পাওয়া গেছে। এসব সামগ্রী কীভাবে তার কাছে এলো এবং কেন তিনি কখনো পুলিশ আবার কখনো এনএসআই সদস্যের পরিচয় দিয়ে মাদক উদ্ধারে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মেহেরপুর সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘বিষয়টি প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। অনুসন্ধান শেষ হলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক ব্যক্তির পরিচয় ও তার কাছে থাকা সামগ্রীর বিষয়ে তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।