স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার শহীদ হাসান চত্বরের ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের সুচনা করা হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সহ জেলার সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
প্রথমেই পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন। পরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খানের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা। এরপর চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ, জুলাই যোদ্ধারা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব, ওজোপাডিকো, পল্লী বিদ্যুৎ, জেলা দূর্নিতী প্রতিরোধ কমিটি, আনসার ব্যাটালিয়ন, ফায়ার সার্ভিস, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে এক বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট মসজিদের পেশ ইমাম কবীর আহমেদ।
পরে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশে’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘ডিসি সাহিত্য মঞ্চে’ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফর নাহার। সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষায় সকলের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় ৫ আগস্টের দিনে ছাত্রজনতার সাথে যা ঘটেছিল তার ওপর আলোকপাত করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার নুসরাত জাহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক ঘটনা। এই অর্জনের কৃতিত্ব ছাত্র-জনতাকে দিতে হবে। বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা জরুরী। দেশে যেন ভবিষ্যতে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপš’া কিংবা উগ্রবাদের পুনরুত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বক্তার। তারা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি দেশের দায় রয়েছে। তাঁদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই দায় পালনের আহ্বান জানাছি। এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বজন হারানো বহু পরিবার এখনও শোক ও বেদনা বহন করছে। শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে বৈষম্যহীন ও সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে। দিবসটি ঘিরে সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এসময় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, যারা দেশের মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও একটি বৈষম্যহীন সমাজের প্রত্যাশায় আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়, বৈষম্য ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়। তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের সাহস, প্রত্যয় ও আত্মত্যাগ এই গণঅভ্যুত্থানকে একটি ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে পরিণত করেছে। চুয়াডাঙ্গার মানুষও সবসময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আইনের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ উল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, চুয়াডাঙ্গার জুলাই শহীদ মাসুদ রানার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস সাফা, বৈষম্যবিরোধি ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি তানভির আহমেদ অনিক, সদস্য সচিব রনি বিশ্বাস, আলমডাঙ্গা উপজেলার বৈষম্যবিরোধি ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরাফাত রহমান, জুলাই যোদ্ধা সিরাজুম মুনিরা ও হাসনা জাহান খুশবু প্রমুখ।
সভার শেষে জুলাই শহিদ চুয়াডাঙ্গার দুই কৃতি সন্তান শাহরিয়ার শুভ ও মাসুদ রানার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয় উপজেলা প্রশাসন। এরপর জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই চলচিত্র ও প্রামাণ্য চলচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
জীবননগর অফিস জানায়, জীবননগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১০টায় জীবননগর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি। এসময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেকার রহমান, জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ, পরিদর্শক (তদন্ত) আতিয়ার রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্ব্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিন মোড়ল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ফিরোজ হোসেন, উপজেলা জামায়াতে সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু বক্কর, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল পারভেজ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রিমন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান, জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন হোসেন, সাংবাদিক ওমর ফারুক ফারুকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জীবননগর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুল জব্বার। সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তারা নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের তাৎপর্য তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ এবং গণতান্ত্রিক চেতনা সমুন্নত রেখে বৈষম্যহীন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলমডাঙ্গা অফিস জানায়, আলমডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গতকাল বুধবার সকাল দশটায় উপজেলার কয়রাডাঙ্গা শহীদ মাসুদ রানার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ জোহর উপজেলার মসজিদগুলোতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ। সভাপতির বক্তব্যে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এ আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁদের আদর্শকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের দায়িত্ব। শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। শহীদ মাসুদ রানার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে মাসুদ রানা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এসময় আরোও উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বানী ইসরাইল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ. এস. এম. মাহামুদুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হকসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাহের আলী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি রাকিব মাহমুদ। আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
দামুড়হুদা অফিস জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে দামুড়হুদায় জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন, উপজেলা প.প. কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি আহত ও অংশগ্রহণকারী জুলাই যোদ্ধাদের অবদানের স্বীকৃতি জানিয়ে তাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। আলোচনা শেষে সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মেহেরপুর অফিস জানায়, গাংনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বুধবার বেলা ১১ টায় গাংনী উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মাসুমের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়র রহমান। বক্তব্য রাখেন গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা জামায়াতের আমীর রবিউল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা, গাংনী টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন, গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, মেহেরপুর জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব মুজাহিদুল ইসলাম। এছাড়াও সাংবাদিক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন বৈষম্যহীন সমাজের প্রত্যাশায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা



