আলমডাঙ্গার খাসকররায় স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে কোচিং শিক্ষকের বাড়ির সামনে ছাত্রীর অবস্থান

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে এক তরুণীর অবস্থানকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকালে তিনি কোচিং শিক্ষক নিশান মাহমুদের বাড়ির সামনে অবস্থান নিলে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
তরুণীর দাবি, গত ২৬ জুলাই রাতে দুই পরিবারের সম্মতিতে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী কাজির মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়। বিয়ের পর তারা একসঙ্গে রাত কাটান। পরদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাকে স্বামীর বাড়িতে তুলে নেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দিয়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়। এরপর থেকে নিশান মাহমুদ তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং ফোনও রিসিভ করছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের কাছে তরুণী জানান, প্রায় তিন মাস ধরে তিনি নিশান মাহমুদের পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করতেন। সেখানেই তাদের পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে বিয়ে হয়। তিনি দাবি করেন, তাদের মধ্যে কোনো তালাক হয়নি। তাই তিনি স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে চান এবং স্বামীর স্বীকৃতি দাবি করছেন।
বিয়ের প্রমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাবিননামা ও বিয়ের ছবি তার পরিবারের কাছে রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলো উপস্থাপন করা হবে।
তরুণীর দুলাভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, বিয়ের পরদিন থেকেই ছেলের পক্ষ থেকে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। আজ আমার শ্যালিকা কোচিংয়ে গিয়ে সেখান থেকে ছেলের বাড়িতে আসে। যদি তারা তাকে গ্রহণ না করে, তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
অন্যদিকে নিশান মাহমুদের বাবা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটির বিয়ের দাবির কোনো ভিত্তি নেই। আমরা এই বিয়ে স্বীকার করি না। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো বৈধ কাবিননামা বা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তরুণীর বয়স ১৬ বছর বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বয়স-সংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে শিগগিরই বৈঠক করে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশান মাহমুদ ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।