গণঅভ্যুত্থান দিবসে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মেহেরপুর অফিস
মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার র‌্যালী, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় থেকে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে একটি র‌্যালী বের হয়ে কলেজ মোড়ে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ অতিথিবৃন্দ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের একান্ত সচিব ড. মোঃ তারিক আজিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম নজরুল কবীর, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক কাউছার আলী ও মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম বকুল। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্যের পিএস সৌরভ মজুমদার, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবু সাঈদ ও সেকশন অফিসার কাজী মইনুল হক।
উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আতাউর রহমান বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান এর সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, নির্যাতন, নিপীড়িত ও অবিচার ও ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে যখন যে সরকার ক্ষমতায় থেকেছে তাদের বিরুদ্ধে সবসময় শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ দেশের আপামর জনসাধারণ আন্দোলন সংগ্রাম করে জীবন বিপন্ন করে ও রক্ত দিয়ে তাদের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি আমাদের দেশের মানুষকে বীরের জাতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. তোজাম্মেল আযম বলেন, জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আমরা সেই জাতি যারা বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে ব্রিটিশদের এ দেশ থেকে তাড়িয়েছি, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এবং ২৪ এর দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছি সুতরাং কেউ অন্যায় অবিচার ও জুলুম করে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তিনি বিগত সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরুপে নষ্ট করা হয়েছে, বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আমি ৮ বছর জড়িত ছিলাম। কোন একটি বিশেষ দল ক্ষমতায় এসেছে তাদের অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল ৩৬ জুলাই। বিগত সময়ে সাংবাদিকদের কলমকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল কিš‘ সাংবাদিকরা জীবনকে বাজি রেখে সকল সত্য উদঘাটন করে সংবাদ করেছে ও মানুষের পাশে থেকেছে।
তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক সমাজকে থামিয়ে দিলে দেশ পিছিয়ে যাবে। শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিমের কথা তিনি স্মরণ করে বলেন যখনি কোন আন্দোলন হয়েছে তখনি আমাদের ছাত্ররা তাদের জীবন বাজী রেখে আন্দোলন করেছে ও সফল হয়েছে। তিনি দেশকে এগিয়ে  নিতে ও গণতন্ত্র রক্ষায়  যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার আহবান জানান। যাতে এদেশের মানুষ সবসময় ভাল অবস্থানে যেতে পারে ও দেশের জন্য কাজ করতে পারে। তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন তোমরা সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন শরীক হয়ে বীরের জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছো এখন তোমাদের দেশ গড়ার জন্য লেখাপড়ায় মনোযোগ দেওয়া দরকার। আলোচনা সভা শেষে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।