স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)- ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৫টায় শহরের বড়বাজার শহীদ হাসান চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় রাজনৈতিক সংস্কার, নিরপেক্ষ নির্বাচন, গণভোট বাস্তবায়ন, প্রশাসনের দলীয়করণের অভিযোগ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতির নানা বিষয় তুলে ধরেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশকে আমরা সুদীর্ঘ অতীত থেকে দেখে আসছি। আমাদের ওপর দিয়ে একটি দীর্ঘ সময় অতিক্রম হয়েছে। আমরা কোনো কথা বলতে পারিনি। কেউ কথা বলার সাহস দেখালে মামলা দিয়ে জেলখানায় নিয়ে গিয়ে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বন্দি করে রাখা হতো। এমন এক দুঃশাসন তৈরি করে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। সে দুঃশাসনের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষকে থাকতে হয়েছে। তারা বলেছিল, ‘ভারতকে যা দিয়েছি, তা আজীবন মনে রাখবে।’ এমন একটি কঠিন সময় বাংলাদেশের মানুষকে অতিক্রম করতে হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এই বিপ্লবে বাংলাদেশের লাখো-কোটি মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। এই বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য আপনাদের চুয়াডাঙ্গার অনেকেই জীবন দিয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। আপনাদের এখানে যে জুলাই স্তম্ভ আছে, তা দেখলে আওয়ামী লীগের মাথা গরম হয়ে যায়। এর কোনো জীবন নেই, কিন্তু এটি মানুষের মাথায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এই স্তম্ভের লেখা কথাগুলোই আওয়ামী লীগের সিংহাসনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে আমরা প্রতিটি মানুষের কাছ থেকে শুনেছি, রাষ্ট্রের সংস্কার প্রয়োজন। বাংলাদেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়, তবে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সংবিধান ও প্রশাসনের সংস্কার করতে হবে। বর্তমান সরকার প্রতিটা স্থানে তাদের দলীয় নেতা কর্মী নিয়োগ দিয়ে রেখেছে। সংবিধান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জেলা পরিষদসহ বড় বড় জায়গাতে বিএনপি তাদের নিজের লোক বসিয়েছে। এভাবে যদি সকল স্থানে নিজেদের লোক রাখা হয় তবে সেটা সবার আগে বাংলাদেশ আর থাকে না সেটা হয়ে যায় সবার আগে বিএনপি।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি। তিনি বলেন, গণভোটের বাস্তবায়নের জন্য আজ আপনাদের দুয়ারে হাজির হয়েছি। আমরা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ভোটে ভোট চুরি হতে দেখেছি। অন্যান্য সরকার ভোট চুরি করত, কিন্তু এবার বিএনপি সরকার ভোটের পর ভোটের ফলাফল চুরি করেছে। এই দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। বর্তমান সরকারও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে সংসদে তারা বলেছেন আমরা ভোটের স্বার্থে গণভোটে “হ্যা” এর পক্ষে ছিলাম। বিএনপি সরকার ও তারেক রহমান আমাদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা করেছেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা দেখেছি, নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে বাংলাদেশে ব্যাংকগুলো কীভাবে দখল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে কিভাবে দখল করা হয়েছে। সবার আগে বাংলাদেশ এই কথাটি বিএনপি ধারণ করে না, তারা ধারণ করে সবার আগে জাতীয়তাবাদী দল। আমরা দেখেছি, আওয়ামী লীগ সরকার ভোটের সময় ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করত। কিন্তু বর্তমান সরকার ও বিএনপির তারেক রহমান এখন থেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং করা শুরু করে দিয়েছেন। আমরা দেখছি জেলার প্রশাসনিক পদে সর্বোচ্চ কর্মকর্তা ডিসিও এখন দলের হয়ে কাজ করছে। ডিসি কি অবশ্যই মনে রাখতে হবে তিনি কোন দলের নয় এ দেশের সাধারণ মানুষের একজন সেবক। নির্বাচন কমিশনে কিছুদিন আগে অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিএনপির দলীয় ব্যক্তি হিসেবে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের প্রত্যেক জায়গায়, প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে বিএনপি প্রতারণা করছে। এমনকি আমাদের পুলিশ ভাইদের সঙ্গেও প্রতারণা করছে। আপনারা দেখেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের পুলিশ ভাইয়েরা সর্বপ্রথম সংস্কারের আলাপ নিয়ে এসেছে। কিন্তু জঘন্যতম বিষয় হলো, বিএনপি সরকার। ক্ষমতায় এসে সেই পুলিশ সংস্কারের বিষয়টি বাদ দিয়ে দিয়েছে। এই পুলিশকে তারা আবার বেনজির বানাতে চাই, নিজেদের মত চালাতে চাই, কিন্তুু বাংলার জনগণ সাথে থাকলে পুলিশ ভাইদের আমরা দলীয় হতে দিবোনা। পুলিশ কোন দলের না, পুলিশ ভাইয়ের মনে রাখতে হবে আপনারা যে ইউনিফর্মটা পড়ে আছেন তা এই দেশের ২০কোটি মানুষের ট্যাক্সের টাকায় কেনা।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির নেতারা এখন প্রশাসনিক পদে বসে। তারা এই বিএনপির দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি দুর্নীতি করছে। এই চুয়াডাঙ্গাতে একজন অনির্বাচিত হয়েও, জনগণ যাকে ৬০ হাজার ভোটে পরাজিত করেছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে তাকে এখন একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির উপরে বসিয়ে দিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য লজ্জার, মানুষ যাকে প্রত্যাখান করেছে ৬০ হাজার ভোটে পরাজিত করেছে।
তিনি বলেন বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগেই বলেছিলেন ১ কোটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। এই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে কর্মসংস্থানের জায়গায় মাদকে উন্মুক্ত করে দিয়ে এই তরুণ প্রজন্মকে ব্যস্ত রেখেছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসেনের সঞ্চলনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসুম এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সরওয়ার তুষার এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান। এ সময় আরোও উপস্থিত ছিলেন, জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার হোসেন ছোটন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলী রুশদী মজনু, যুগ্ম আহ্বায়ক রাফিউল কাদির রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল পারভেজ সহ এনসিপি ও জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টি ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ পথসভায় আখতার হোসেন এমপি এদেশকে স্বাধীন করার জন্য চুয়াডাঙ্গার অনেকেই জীবন দিয়েছেন, অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগে নতুন দেশ পেয়েছি



