আলমডাঙ্গা অফিস
টানা ভারী বর্ষণে আলমডাঙ্গা উপজেলার ফরিদপুর এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও প্রাঙ্গণ পানিতে তলিয়ে গেছে। হাঁটুসমান পানি ও কাদা মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পুরো মাঠজুড়ে পানি জমে রয়েছে। শ্রেণিকক্ষে যেতে শিক্ষার্থীদের কাদা ও হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রবও বেড়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
এদিকে জরাজীর্ণ টিনের চালা দিয়ে বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ ধসে পড়ায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোজাহিদ আল সাদিত বলেন, বিদ্যালয়ে যেতে মাঠের পানি পেরোতে হয়। প্রতিদিনই স্কুল ড্রেস ভিজে ও নষ্ট হয়ে যায়। আমরা ছেলেরা কোনোভাবে আসতে পারলেও মেয়েশিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। বর্ষাকালে তাদের জন্য বিদ্যালয়ে যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলেও এর স্থায়ী সমাধানে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আসিফ আল নূর তামিম বলেন, ফরিদপুর এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অবহেলার শিকার। সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠ ও প্রাঙ্গণে পানি জমে যায়। শ্রেণিকক্ষের মেঝেও নিচু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘদিনেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অবিলম্বে বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ, স্থায়ী ড্রেনেজ নির্মাণ এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষা কার্যক্রম আরও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আলমডাঙ্গার ফরিদপুর এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতায় ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম



