আলমডাঙ্গার নিগার সিদ্দিক কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ২০ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গার নিগার সিদ্দিক কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ২০ লাখ টাকা অর্থ  আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্টে প্রতিষ্ঠানের ১৯ লাখ ৯৫ হাজার ৬২৫ টাকার কোন হদিস মিলছে না। এই বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরিচালনা পর্ষদের গভর্নিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষ নানান ধরনের ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছেন।  
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাত্র ২১ মাসের ব্যবধানে কলেজের ফান্ড থেকে এই বিশাল অংকের টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজ হেফাজতে রেখে আত্মসাৎ করেছেন অধ্যক্ষ। গত ১১ জুন কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে অডিট প্রতিবেদনটি সর্বসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়। এরপর অর্থ ফেরত দেওয়া অথবা কোনো আপত্তি থাকলে তা লিখিতভাবে জানাতে ১০ কার্যদিবসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। গত ২৪ জুন সেই সময়সীমা পার হয়ে গেলেও অধ্যক্ষ টাকা ফেরত দেননি, এমনকি কোনো আইনি জবাব দেননি।
অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও ভর্তি উপকমিটির সদস্যদের কোনো প্রকার সম্মানি বা ভাতা না দিয়েই কাগজে-কলমে তা সম্পূর্ণ পরিশোধ দেখিয়ে পুরো টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করা হলেও সেই বিক্রয়লব্ধ টাকা কলেজের মূল অ্যাকাউন্টে জমা না করে সরাসরি ভাগাভাগি করে নিয়েছেন অধ্যক্ষ ও সভাপতি। এমনকি ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপন না করেই শুধুমাত্র ভুয়া ভাউচার তৈরি করে পুরো বাজেট আত্মসাৎ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ক্রয়, অর্থ বা উন্নয়ন কমিটি থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা করা হয়নি, যার ফলে কলেজের যাবতীয় কেনাকাটার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাজ কোনো দরপত্র ছাড়াই ভুয়া বিলের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও নির্দিষ্ট দিনগুলোতে সশরীরে কলেজে উপস্থিত থেকেও খুলনা আঞ্চলিক অফিস ও ঢাকায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের নামে ভুয়া টিএ/ডিএ বিল তোলা হয়েছে এবং কোনো অভিভাবক সমাবেশ না করেই ভুয়া খরচের ভাউচার তৈরি করা হয়েছে।
আর্থিক দুর্নীতির অন্যতম প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ মিলেছে হিসাব-নিকাশের খাত পরিবর্তনের মাধ্যমে। কলেজের ডিগ্রি শাখা থেকে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের সেশন ফি, ভর্তি ও ফরম পূরণ বাবদ মোটা অঙ্কের আয় হলেও তা মূল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না নিয়ে সম্পূর্ণ গোপন করা হচ্ছে। অথচ ডিগ্রি শাখার যাবতীয় প্রশাসনিক ব্যয় মেটানো হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক শাখার সাধারণ তহবিল থেকে। সবচেয়ে নজিরবিহীন জালিয়াতি করেছেন গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসান। অভিযোগ উঠেছে, তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিজের কার্যভার বা দায়িত্ব গ্রহণ করার পূর্ববর্তী তারিখে অর্থাৎ ব্যাকডেটে কলেজের বিভিন্ন খরচের বিল ও ভাউচারে সই করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই আর্থিক নথিপত্রে এই বেআইনি স্বাক্ষর তার সরাসরি অংশীদারিত্বকেই প্রমাণ করে। মূলত শিক্ষার্থীদের সেশন ফি, ভর্তি ফি, ফরম পূরণ, টিউশন ফি, কলেজের স্থায়ী আমানতের লভ্যাংশ এবং কলেজের নিজস্ব সম্পত্তির লিজ থেকে অর্জিত আয়ের একটি বিশাল অংশ কলেজের মূল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না করে এই চক্রটি জাল ভাউচারের মাধ্যমে লুটে নিয়েছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিস, দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর কলেজের শিক্ষক পরিষদের পক্ষে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
  কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। আগামী ২ তারিখে সব জানতে পারবেন। আমার আর ৪ মাস চাকরি আছে। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। গভর্নিং বডির সভাপতি ইউসুফ হাসানের সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি, ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।