সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ ও চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপনকে সংবর্ধনা

স্টাফ রিপোর্টার
সাহিত্য পরিষদের নিয়মিত সাপ্তাহিক সাহিত্য পাঠের আসর ‘পদধ্বনি’র ১৬২৪তম পর্ব এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে সাহিত্য পরিষদের শহীদ আলাউল ইসলাম হলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন সাহিত্য পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটির অর্থ সম্পাদক মিম্মা সুলতানা মিতা এবং শিশু বিষয়ক সম্পাদক বনলতা। পরে বাংলা একাডেমির সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের আজীবন সদস্য কাজল মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের সহ-সভাপতি সরদার আলী হোসেন। এরপর উপস্থিত সাহিত্যপ্রেমীরা তাঁদের স্বরচিত কবিতা ও লেখা পাঠ করেন। এ সময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফকে উদ্দেশ্য করে রচিত ‘তুমি সেই’ শীর্ষক কবিতা পাঠ করেন কাজল মল্লিক। এছাড়া স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন জি এম জোয়ার্দার, হুমায়ুন কবীর, পূর্ণিমা সাহা, বনলতা, সার্থক আলিম, জাকিয়া সুলতানা ঝুমুর, সাহেদ আলী, হারুন অর রশিদ, মর্জিনা খাতুন, মিম্মা সুলতানা মিতা, আবু নাসিফ খলিল, সালমা, হাবিব বাবু ও মোজাম্মেল হক।
কবিতা পাঠ শেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ। একই সময়ে বিশেষ অতিথি চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপনের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান। এ সময় প্রধান অতিথি শরীফুজ্জামান শরীফ চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের আজীবন সদস্যপদের ফরম পূরণ করে জমা দেন।
চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, আজ আমার সামনে যারা উপস্থিত রয়েছেন, তারা সবাই জ্ঞানী-গুণী মানুষ। তাই আপনাদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার চেয়ে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে জেলার সাহিত্যচর্চার বিকাশে কাজ করতে চাই।
তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে জেলায় সাহিত্যচর্চায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। বর্তমানে এই পরিষদে অধিকাংশই ষাটোর্ধ্ব বয়সী সাহিত্যপ্রেমী রয়েছেন। তাঁদের চিন্তা-চেতনা, অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণা আমাদের জন্য মূল্যবান। তবে সাহিত্য পরিষদের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করা জরুরি। আপনাদের হাত ধরেই আগামী দিনের নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, সাহিত্য কোনো রাজনৈতিক দল নয়। সাহিত্য চেতনা, অনুভব ও উপলব্ধির বিষয়। একজন সাহিত্যিক কোন পরিবার বা পরিবেশ থেকে উঠে আসবেন, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। তাই দল-মত নির্বিশেষে সাহিত্যের প্রতি যাদের আগ্রহ রয়েছে, তাদের বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ আবারও তার আগের জৌলুস ফিরে পাবে।
জেলার সব সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিয়ে সাহিত্য পরিষদের নেতৃত্বে একটি সাংস্কৃতিক মেলার আয়োজনের প্রস্তাবও দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, এই মেলায় কবিতা, গান, মঞ্চনাটকসহ নানা আয়োজন থাকবে। প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে আমি আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। সবার সহযোগিতায় জেলার সাহিত্যচর্চাকে আরও এগিয়ে নেওয়াই আমার লক্ষ্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, “প্রতি শুক্রবার সাহিত্য পরিষদের ‘পদধ্বনি’ আয়োজনের মাধ্যমে সাহিত্যচর্চা অব্যাহত রয়েছে। এখানে সাহিত্যপ্রেমীরা নিজেদের লেখা কবিতা পাঠ করেন। “কবিতা ও দেবতা—উভয়ই সুন্দরের প্রকাশ। তাঁদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, সমাজের কমান্ডার হলো রাজনীতি। রাজনীতি যখন পথ হারায়, তখন সাহিত্য ও সংস্কৃতি তাকে পথ দেখায়। আবার রাজনৈতিক চর্চা দুর্বল হয়ে পড়লে সাংস্কৃতিক আন্দোলনও শক্তিশালী হতে পারে না। বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করছে সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে আরও সমৃদ্ধভাবে তুলে ধরতে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান এবং সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি তৌহিদ হোসেন। সমাপনী বক্তব্য দেন সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ।
এ সময় অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস, শেখ পিন্টু, লিটু বিশ্বাসসহ সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।