জীবননগর অফিস
জীবননগর উপজেলায় মৌসুমি নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে| জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল, তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, শরৎকালীন সবজি ক্ষেত ও মাছের পুকুর| এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক ও মৎস্যচাষিরা| জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গতকাল শুক্রবার রাত ৩.৪০ মিনিট হতে সকাল ৯টা পযর্ন্ত ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে| একটানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে|
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার নিচু এলাকা ছাড়াও হাসাদাহ, রায়পুর, মনোহরপুর ও সীমান্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পানি জমে রয়েছে| অনেক গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে| সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ| টানা বৃষ্টির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে এসেছে| অতিরিক্ত বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন মাছের পুকুরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে| অনেক চাষি মাছ বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পুকুরের চারপাশে নেট জাল দিয়ে সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন|
স্থানীয় মৎস্যচাষি সাগর হোসেন জানান, অতিবৃষ্টিতে তার একাধিক পুকুরের পানি উপচে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে| তাই চারপাশে নেট জাল লাগানো হয়েছে| বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে মাছ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন|
ভারী বর্ষণে উপজেলার নিচু এলাকার আমন ধানের বীজতলা ও শরৎকালীন সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে| কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে বীজতলা পচে নষ্ট হতে পারে, যা আগামী আমন মৌসুমের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে|
সীমান্ত ইউনিয়নের কৃষক মোশারফ হোসেন বলেন, আমি ১২ শতক জমিতে আমনের বীজতলা ˆতরি করেছিলাম| টানা বৃষ্টিতে পুরো বীজতলাই পানির নিচে চলে গেছে| আরও কয়েকদিন এ অবস্থা থাকলে বীজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে|
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল রানা বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো মাছচাষি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েননি| তবে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে পুকুর ও ঘেরের চারপাশে উঁচু করে নেট বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে|
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ বীজতলাই বর্তমানে পানিতে ডুবে রয়েছে| তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি| কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে| পাশাপাশি সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে|
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, অতিবৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি পানিতে ডুবে গেছে এবং কিছু মাছের পুকুরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে| উপজেলা প্রশাসন সাধারণ কৃষকদের পাশে রয়েছে| যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে|
জীবননগরে ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত, পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ



