চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের ‘বড় ভাই’ পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে আলমডাঙ্গায় জনতার হাতে দুই ব্যক্তি আটক

আলমডাঙ্গা অফিস
ক্ষমতাধর ব্যক্তি কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা দেশে নতুন নয়। তবে এবার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের বড় ভাই পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানো, সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগে আলমডাঙ্গায় জনতার হাতে আটক হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম ডাবলু ও কালু মন্ডল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানার হরিনারায়ণপুর গ্রামের হাজী ইসমাইলের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ডাবলু দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের বড় ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চলাফেরা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাবলু সরকারি কাজ, টেন্ডার, পুরাতন সরকারি ভবন ভাঙার কাজসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এসব কাজ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার কুর্শা গ্রামের মুকুল চাঁন মণ্ডল ছেলে কালু মণ্ডল এবং আফসার উদ্দিন ছেলে তফসের উদ্দিন, আলমডাঙ্গার হেলাল-এর নামও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা ডাবলুর সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।
চুয়াডাঙ্গা শহরের মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা সেকেন্দার আলী ছেলের রাসেলের অভিযোগ করেন যে তাকে পুরাতন ভবন ভাঙার কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এ জন্য অর্থও নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো কাজ না পেয়ে এবং নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করে তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডাবলু বিভিন্ন স্থানে নিজেকে জেলা প্রশাসকের বড় ভাই পরিচয় দিয়ে বলতেন, জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়ায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই পরিচয় কাজে লাগিয়ে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা ও কাজ পাইয়ে দিতে পারবেন বলেও তিনি আশ্বাস দিতেন।
একই ধরনের অভিযোগ একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে আসতে থাকলে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু হলে তার পরিচয় এবং দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ঘটনার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে আমার কোনো পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। তিনি আমার কেউ নন। তার সঙ্গে আমার এ ধরনের কোনো কথাবার্তাও হয়নি। আমার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ প্রতারণা করলে তার দায় সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।