চুয়াডাঙ্গায় দুই দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ কোটি মানুষকে পেনশনের আওতায় আনতে কার্যক্রম চলছে : ড. সুরাতুজ্জামান

স্টাফ রিপোর্টার
২০৩০ সালের মধ্যে দেশের চার কোটি মানুষকে পেনশনের আওতায় আনার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘বার্ধক্যের সময়ে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশের প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে এই সেবার আওতায় আনাই আমাদের লক্ষ্য।’ গতকাল বুধবার সকালে ১০ টায় চুয়াডাঙ্গায় জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে দুই দিনব্যাপী ‘সর্বজনীন পেনশন মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলোওয়াত করেন কারী কবির আহমেদ। এছাড়াও গীতা পাঠ করা হয়।  প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও এ ধরনের পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। সরকারি ট্রেজারি ফান্ডের মাধ্যমে জাতীয় পেনশন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হবার কোনও কারণ নেই, কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ডে এ অর্থ অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত থাকবে। আপনাদের গচ্ছিত এই টাকা আপনাদেরকেই ফেরত দেওয়া হবে। তিনি জানান, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা ব্যাংকের মাধ্যমে নিয়মিত সঞ্চয় করে ৬০ বছর বয়সে পেনশন সুবিধা পাবেন। জীবনের এমন একটি সময়ে এই অর্থ প্রদান করা হবে, যখন আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি থাকে। ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, কেউ ৬০ বছর বয়সের পূর্বে মৃত্যুবরণ করলে তার নমিনি সুদসহ জমাকৃত অর্থ ফেরত পাবেন। এছাড়া আয়-সামর্থ্যের পরিবর্তন হলে মাসিক চাঁদার পরিমাণ কমানো বা বাড়ানোর সুযোগও থাকবে।
“সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন” এ প্রতিপাদ্যকে ধারন চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে মেলা উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের কলেজ রোড ঘুরে জেলা শিল্পকলার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এখানে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শারমিন আক্তার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সিভিল সার্জন ডা হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ,  জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অর্থ ও প্রশাসন সদস্য শেখ কামরুল হাসান। বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে একটি সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারের গৃহীত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দুই দিনের এ মেলা।
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি নিবন্ধন, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগও থাকবে। জেলা প্রশাসন চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে সর্বজনীন পেনশন মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ৪ টি স্কিম রয়েছে।
মেলায় সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এন আর বি সি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সমাজসেবা কার্যালয় ,  মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর , যুব উন্নয়ন, হর্টিকালচার, বিকাশ ও নগদ এর স্টল দেওয়া হয়েছে। আলোচনা অনুষ্ঠানের মাঝে- মাঝে  জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল নাঈম, মির্জা শহীদুল, শাকিল মোঃ ছাফিউল্লাহ, জমির উদ্দিন, সাগর দে, আব্দুল্লাহ আল শামীম, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল,  চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সনি, দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফ, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম  প্রমুখ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।