মেহেরপুর অফিস
মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেনের রায়ের নথি (ডেথ রেফারেন্স) আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে। লাল কাপড়ে মোড়ানো নথিটি পুলিশি পাহারায় ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জেলা পুলিশের একটি দল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অফিস সহকারী আহাদ হোসেন নথিটি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দুল হাসানের ছেলে।
মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায়ের নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো বাধ্যতামূলক। ঈদের ছুটির পর আদালত খোলায় মঙ্গলবার তা পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নথিটি প্রথমে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ করা হবে। পরে পেপার বুক প্রস্তুত করে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে। শুনানি শেষে উচ্চ আদালত মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা, পরিবর্তন করা বা বাতিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৪ মে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী তার বাবার জন্য মাঠে খাবার নিয়ে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পাশের একটি পাটখেতে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে শিশুটির বাবা গাংনী থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের নথি লাল কাপড়ে মুড়িয়ে পাঠানো হলো উচ্চ আদালতে



