খন্দকার শাহ আলম মন্টু, আলমডাঙ্গা
প্রথম শ্রেণির আলমডাঙ্গা পৌরসভা। চার দশকের পথচলায় অবকাঠামোগত নানা উন্নয়নের সাক্ষী হলেও সেই উন্নয়নের ছোঁয়া এখনো পুরোপুরি পৌঁছেনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বন্ডবিল এলাকায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আলমডাঙ্গা পৌরসভা পরবর্তীতে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে রাস্তা, ড্রেন, সড়কবাতি ও বাজার উন্নয়নসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও বন্ডবিল এলাকার মানুষের দাবি, তাদের ওয়ার্ডে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখনো দৃশ্যমান নয়।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মোট জনসংখ্যা ৫ হাজার ৪৮১ জন। ওয়ার্ডটিতে রয়েছে ৭৩৭টি হোল্ডিং এবং প্রায় ২ হাজার ৩০০ ভোটার। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য কর পরিশোধ করলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেক এলাকায় এখনো কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও তাদের জীবনযাত্রার মান অনেকাংশে অনুন্নত ইউনিয়ন এলাকার মতোই রয়ে গেছে। ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ প্রধান সড়কগুলোর বেশ কয়েকটি অংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সড়ক সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ তাদের।
এলাকাবাসী জানান, সড়কবাতির অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। কিছু স্থানে খুঁটি ও বাতি স্থাপন করা হলেও অনেকগুলো এখনো অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি, আবার কোথাও বাতি জ্বলছে না। ফলে রাতের বেলায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা বলেন, পৌরসভা হওয়ার পর থেকে অনেক নির্বাচন দেখেছি। প্রতিবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে বন্ডবিলে বড় ধরনের উন্নয়ন চোখে পড়েনি।
তরুণদের অভিযোগ, আলমডাঙ্গা পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ডের তুলনায় ৯ নম্বর ওয়ার্ড উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাদের মতে, নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে এই ওয়ার্ড এখনো অবহেলিত এলাকার চিত্র বহন করছে। একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যদি ইউনিয়নের অধীনে থাকতাম তাহলে কর কম দিতে হতো। কিন্তু প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিক হয়েও আমরা সেই অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পানি নিষ্কাশনের জন্য কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ, ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং কার্যকর সড়কবাতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
২০০৪ সালে আলমডাঙ্গা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হওয়ার পর দুই দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও বন্ডবিল এলাকার প্রত্যাশিত নাগরিক উন্নয়ন বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। এদিকে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে ভোটারদের ভাষ্য, এবার তারা প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব কাজকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান। তাদের মতে, রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কবাতি, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত আগামী নির্বাচনের প্রধান ইস্যু।
প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পাওয়ার বহু বছর পরও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারো মানুষের মনে আজও একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— “আমরা কর দিচ্ছি পৌরসভাকে, কিন্তু পৌরসভার নাগরিক সুবিধা কি সমানভাবে পাচ্ছি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বন্ডবিল এলাকার প্রায় আড়াই হাজার ভোটার এবং পাঁচ হাজারের বেশি সাধারণ নাগরিক। তবে এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য গ্রহণের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত আলমডাঙ্গার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা



