কুরবানির ঈদের আগে ছুরি, বটি, দা ˆতরির ব্যস্ততা বেড়েছে কামারদের, টুংটাং শব্দে মুখরিত জীবননগরের কামারপাড়া

হাসান নিলয়, জীবননগর


পবিত্র ঈদুল আজহা’র বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন|কুরবানির পশু জবেহ ও মাংস প্রস্তুত করার জন্য ছুরি,বটি দা, চাপাতি, ডাঁসাসহ দেশিয় অস্ত্র ˆতরি ও পুরাতন যন্ত্রপাতি ঘষামাজার কাজ সেরে নিচ্ছেন সবাই| তাই এই কাজে ব্যস্ততা বেড়েছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের কামার শিল্পের শ্রমিকদের| সেই সাথে বেড়েছে তাদের আয় রোজগার| লোহাকে কয়লার আগুনে পুড়িয়ে লাল টকটকে করে ঠেঙ্গিয়ে-ঠেঙ্গিয়ে ˆতরী করা হচ্ছে দেশীয় অস্ত্র|যেন টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামার পাড়া| উপজেলার সীমান্ত, হাসাদাহ, বাঁকা, আন্দুলবাড়ীয়া, উথলী এলাকা ঘুরে একই দৃশ্য চোখে পড়েছে|
উপজেলার উথলী গ্রামের ঈশ্বর নরেন্দ্রনাথ কর্মকারের ছেলে শ্রী অনীল কুমার কর্মকার উপজেলার বেশ সুপরিচিত একজন কামার|তিনি তার বাবার হাত ধরে দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে এই কামার শিল্পের সাথে জড়িত| এখন তার একমাত্র ছেলে শ্রী অমল কুমার কর্মকার কে সাথে নিয়ে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন|
তার সাথে কথা বলে জানা যায়,সারা বছরেই তারা এই কাজ করে থাকেন| তবে কুরবানীর ঈদ আসলেই দা,বটি,ছুরি,ডাঁসা ˆতরি ও পুরাতন অস্ত্র ঘষামাজার কাজের চাপ পড়ে যায়|কাজের প্রচণ্ড চাপ তার ওপর বিদ্যুতের লোডশেডিং|বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচন্ড গরমের মধ্যে আগুনের পাশে বসে কাজ করাটা তাদের জন্য অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে| যে কাজগুলো করার অর্ডার নেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সেই কাজগুলোই করছেন নতুন করে কাজের অর্ডার নিচ্ছেন না|
নতুন অস্ত্র ˆতরির খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বর্তমান লোহার দাম অনেক বেড়ে গেছে ১ কেজি ওজনের লোহার একটি দা বা বটি ˆতরি করতে আমরা ১৫০০ টাকা নিয়ে থাকি|এছাড়াও ছুরি ˆতরি করতে ছুরির সাইজ অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়| পুরাতন অস্ত্র ঘষামাজা করতে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা নিয়ে থাকি| অনীল কামারের মত কামার পাড়ায় অন্যান্য কামরেরাও এখন ব্যাস্ততম সময় পার করছেন|
আব্দুল ওয়াহেদ নামের এক কামার জানান,সারাবছর তেমন কাজের চাপ থাকেনা|কুরবানির ঈদ আসলেই প্রচুর কাজের চাপ পড়ে যায়| দিনে রাতে সবসময় কাজ করছি তারপরও কাজ শেষ হচ্ছে না|নতুন কাজের অনেক অর্ডার আসছে|ঈদের পর আবার কাজের ব্যস্ততা কমে যাবে|

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।