সুজন আহমেদ, পদ্মবিলা প্রতিনিধি
বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়ই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই| আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টির, ঝড়ে| বাবুই হাসিয়া কহে, সন্দেহ কি তাই? কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়| পাকা হোক, তবু ভাই, পরেরও বাসা, নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাঁচা”|
রজনীকান্ত সেনের কবিতার সেই বাবুই পাখি আজ হারিয়ে যাচ্ছে| বাবুই পাখি সুনিপুণ এক কারিগর| কারুকার্যময় বাসা ˆতরী করে নতুন নতুন সঙ্গীর সঙ্গে সখ্যতা গড়া যার নেশা| এক সময় গ্রামবাংলায় ছোট্র এ বাবুই পাখির বাসাগুলো ছিলো চোখে পড়ার মতো| এ পাখি যেমন বুদ্ধিমান তেমনি শিল্পির মতো অপরুপ তার কারুকার্য| বাবুই পাখি দেখতে অনেকটা চড়ুই পাখির মত| তবে আকারে একটু বড়| এরা ঝাঁক বেঁধে তাল গাছের চুড়ায় বসবাস করে, এরা খুব মেধাবী পরিশ্রমি পাখি হিসেবে পরিচিত| গ্রামগঞ্জে বাবুই পাখি আর আগের মত চোখে পড়ে না|
একদিকে নির্বিচারে পাখি শিকার ও তাল গাছ কেটে ফেলা অন্যদিকে খাঁচায় বন্দি করে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেচা কেনাও হচ্ছে এ পাখি| যার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে সুনিপুন কারিগর বাবুই পাখি| বাবুই পাখিরা সাধারণত তাল গাছের চুড়ায় বাসা বাঁধে|
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের কালি ভান্ডারদহের মাঠে একটি তাল গাছে বাবুই পাখি বাসা ˆতরি করেছে| ওই গাছে ৩০/৪০টি বাসা বেধেছে| প্রায় ১ বছর ধরে তাল গাছে বাসা বেধে বাবুই পাখি বসবাস করছে| দুর দূরান্ত থেকে অনেকেই এ পাখির বাসা দেখতে আসে|



