৪৫ বছর পর আলমডাঙ্গায় ডি ১৫এন খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী

আলমডাঙ্গা অফিস
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (এ্যানি) বলেছেন, দীর্ঘদিন খাল খনন ও সংস্কার না হওয়ায় চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশে সেচব্যবস্থায় ঘাটতি এবং জলাবদ্ধতা বেড়েছে, যা কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে মারাত্মক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল শনিবার  দুপুর আড়াইটায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ইছেরদাড়ী মোড়ে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে মন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। খালের তলদেশের গড় প্রস্থ ৭ মিটার এবং গড় গভীরতা ১ দশমিক ৫ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৫ হাজার ২০০ মানুষ উপকৃত হবেন। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষককে বাঁচাতে হলে খাল খনন ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই।
“প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপলব্ধি করেছেন, দেশকে রক্ষা এবং কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে হলে নদী-খাল পুনরুদ্ধার জরুরি। ক্ষমতায় এলে সারাদেশে খাল, নদী ও জলাশয় খনন ও পুনঃখনন করা হবে বলে নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এসময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত খাল খননের মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগ ছিল একটি বিপ্লব, যা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য আলাদা ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। শুধু শহরের উন্নয়ন করলেই হবে না, গ্রাম ও কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই সরকার কাজ করছে। কৃষকদের সরাসরি সহায়তা ও সুবিধা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, কৃষকদের উৎসাহিত করতে ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া খাল খননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে এবং খালগুলোতে মাছ চাষ ও হাঁস পালন করে কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, খাল খননে শুধু ড্রেজারের ওপর নির্ভর না করে নারী-পুরুষ উভয়কে শ্রমিক হিসেবে সম্পৃক্ত করা হবে, যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।” পাশাপাশি খননকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি এবং এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা জানান।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন  চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান, সিভিল সার্জন ডা হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ,  চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ । স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক আরিফ আহমেদ।
এর আগে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউসে এসে পৌছুলে জেলা প্রশাসন ও বিএনপির নেতা কর্মিরা তাকে ফুলেল শুভেচছায় স্বাগত জানান। পরে সার্কিট হাউজের কনফারেন্স রুমে দলীয় নেতা কর্মিদের সাথে মতবিনিময় করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটি পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে। প্রথম ধাপে ৭ কিলোমিটার কাজ শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে ৩০কিলোমিটার সম্পন্ন হবে।
প্রসংগত: দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন আলমডাঙ্গার মানুষ। তাদের বিশ্বাস— এই খাল পুনঃখনন শুধু জলাবদ্ধতা নিরসনই নয়, বরং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে এবং বদলে দেবে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।