খন্দকার শাহ আলম মন্টু
আলমডাঙ্গায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তরুণরা একসময় মাঠে খেলাধুলা, শিক্ষাঙ্গনে সাফল্য আর স্বপ্নে ভবিষ্যৎ গড়ার কথা বলত, তাদের অনেকেই এখন মাদকের করাল গ্রাসে বিপর্যস্ত। শারীরিকভাবে দুর্বল, মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এবং লক্ষ্যহীন হয়ে পড়ছে একাংশ যুবক—যা স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই দৃশ্যমান পরিবর্তন শুধু উদ্বেগজনকই নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য এক গভীর অশনিসংকেত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকাসহ বাজার, রেলস্টেশন, পশুহাট ও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সন্ধ্যার পর থেকেই মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ছে। কোথাও কোথাও প্রকাশ্যেই ইয়াবা সেবন ও বেচাকেনা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক এলাকার কাছাকাছি এমন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করছে।
স্থানীয়দের দাবী আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ এলাকা—যা হওয়া উচিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল কেন্দ্র। অথচ সেই প্রশাসনিক এরিয়ায় ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য এক প্রকার অভয়ারণ্যে। দিনের আলো কিংবা রাতের অন্ধকার—দুই সময়েই এখানে সন্দেহজনক আনাগোনা চোখে পড়ে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও হতাশার জন্ম দিচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র অত্যন্ত কৌশলে এই এলাকায় মাদক সরবরাহ ও সেবনের পরিবেশ তৈরি করছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ সমাজ, যারা অজ্ঞতা, কৌতূহল বা হতাশা থেকে জড়িয়ে পড়ছে এই ভয়াল ফাঁদে। পরিবারগুলো হারাচ্ছে তাদের সম্ভাবনাময় সন্তানদের, আর সমাজ হারাচ্ছে তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, অতীতে আলমডাঙ্গায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের পরও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না এই মাদক বাণিজ্য।
যতদুর জানা গেছে —উপজেলায় একজন দক্ষ, চৌকস ও মানবিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্বে রয়েছেন। তারই নেতৃত্বে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু মাদকের এই বিস্তার রোধে তার সমন্বিত ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি হয়ে উঠেছে।
এক্ষেত্রে করনীয় হিসেবে কিছু পদক্ষেপের আবশ্যকতা রয়েছে।মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা নিশ্চিত করণ,মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা।যুবকদের জন্য যথাসাধ্য বিকল্প ইতিবাচক কার্যক্রম (খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা) বৃদ্ধির ব্যাবস্থা গ্রহন করা।
সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে আলমডাঙ্গাবাসী আশা করে—সময়োপযোগী, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে খুব শিগগিরই এই মাদকের অন্ধকার ছায়া দূর হবে। কারণ, একটি সুস্থ প্রজন্মই পারে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।
আলমডাঙ্গায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ



