মেহেরপুর অফিস
মেহেরপুর শহরের ক্যাশ্যবপাড়া থেকে সুরাইয়া নাসরিন টগর (৩৪) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধায় সে বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর থেকেই তার আর সন্ধ্যান পায়নি পরিবার। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের পরিত্যাক্ত স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। থানায় সাধারণ ডাইরি করেও কোন তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ অভিযোগ পরিবারের। তবে তাকে হত্যা করে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করছে পুলিশ।
নিহতের স্বামী শফিউজ্জামান সেন্টু জানান, সে মেহেরপুর গাংনী উপজেলা গাড়াডোব গ্রামে আশা এনজিওতে চাকুরি করেন। ৩০ ডিসেম্বর তার সন্তানেরা জানান মা কিছু স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পুলিশে খবর দেন তিনি। পরদিন রাত পর্যন্ত সুরাইয়া বাড়ি না ফেরায় সদর থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন তিনি। কিন্তু গেল ৮ দিন ধরে সন্ধান দেওয়াতো দূরের কথা কোন খোঁজখবরই দিতে পারেননি পুলিশ।
এদিকে নিহতের ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম টুটল অভিযোগ করে বলেন, সন্দেহভাজন তিনজনের নাম পুলিশকে দেওয়া হয়। এমনকি তাদের কথোপোকথনের কিছু গোপন চ্যাট লিস্ট সরবরাহ করেন তিনি নিজেই। তারপরও গুরত্বের সাথে বিষয়টি পুলিশ দেখেনি বলে অভিযোগ তার।
তিনি আরো বলেন, তার খালু সেন্টু তিন বছর আগে গাংনী উপজেলার তেঁতুল বাড়িয়া গ্রামের আশা এনজিওতে চাকুরি করতেন। এ সময় এক ইউপি সদসের সাথে সুরাইয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এছাড়াও শহরের আরো দু’জনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতো তার খালা। বাড়ি থেকে বের হবার আগেও এই তিনজনের সাথে মুঠোফোনে নিয়মিত কথা বলেছে। তারপরও পুলিশ তাদের সন্দেহের তালিকায় রাখেননি।
মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনর্চাজ(ওসি) হুমায়ন কবীর জানান, সাধারণ ডাইরি লিপিবদ্ধ হবার পর থেকেই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখেছে পুলিশ। এমনকি তার কললিস্টসহ বেশ কয়েকটি সূত্র ধরে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। দ্রুত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
মেহেরপুরে ৮ দিন নিখোঁজের পর নারীর মরদেহ উদ্ধার



