দীর্ঘ বিরতীর পর চুয়াডাঙ্গা শিশু-কিশোর সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ বিরতির পর চুয়াডাঙ্গায় শিশু-কিশোর সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম সাইফুল্লাহ। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশন সংলগ্ন স্টেডিয়াম এরিয়ায় অবস্থিত চুয়াডাঙ্গা শিশু-কিশোর সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির উদ্ধোধন করা হয়। সাতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালে। প্রতিষ্ঠাতা ততকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ড. কে,এম মামুনঊজ্জামান চুয়াডাঙ্গায় যোগদানের পরপরই কলেজ পড়ুয়া একজন চিকিৎসকের পুত্রসহ ১৫ দিনের ব্যবধানে তিনজন কিশোর পানিতে ডুবে মারা যাওয়ায় তিনি খুব ব্যাথিত হন। সে সময় তিনি মনস্থির করেন সাঁতার না জানার কারণে এভাবে কোনো শিশু-কিশোর যুবকদেরকে যাতে পানি জনিত অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুমুখে  আর পতিত না হতে হয়। সেই মহৎ উদ্যোগ থেকেই চুয়াডাঙ্গায় গড়ে তোলা হয় শিশু কিশোর সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি। প্রতিষ্ঠার শুরুর বছরে অনেক প্রশিক্ষণ সফলভাবে প্রশিক্ষণ  গ্রহণ করে।  কিন্তু ২০১৯ সালে ভয়াবহ করণার ভয়াল ছোবল, পরবর্তী বছরগুলোতে প্রচন্ড তাপদাহ ও চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড পরিমাণ শীত জনিত কারণসহ নানা কারণে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটে, প্রতিষ্ঠানটি চলতে থাকে  খুঁড়িয়ে খুড়িয়ে।এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাস্মদ জহিরুল ইসলাম ও সম্পাদক চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম সাইফুল্লার উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার থেকে ভর্তি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সমাজসেবক সিরাজুল ইসলাম মনি, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটি সদস্য সোহেল আহমেদ মালিক সুজন, বাবু মুন্সী, ইসলাম রকিব ও চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রায়হান মোল্লা। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম সাইফুল্লাহ প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে বেশি বেশি প্রচারের ব্যবস্থা করার বিষয়ে জোর তাগিদ দেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা বিধান ও অনাকাক্সিক্ষত অনুপ্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করারও আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, নদীমার্তৃক বাংলাদেশে সাঁতার প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি জনিত যে কোন দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাবার কৌশল অবলম্বনের পাশা-পাশি যেকোনো ডিফেন্সিয়াল (সেনা, নৌ, বিমান ও বিজিবি) চাকুরীর ক্ষেত্রে সাঁতার প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই চুয়াডাঙ্গাবাসী সকল অভিভাবকদের আমি আহ্বান জানায়, আপনার সন্তানকে পানি জনিত  যেকোনো দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষার জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করান, আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।